একটি মামুলি কাচের বোতল, কাঠের ছিপি দিয়ে মুখ বন্ধ। ১৩২ বছর ধরে লুকানো ছিল দক্ষিণ স্কটল্যান্ডের একটি বাতিঘরের দেয়ালে। এই দীর্ঘ সময়ে কেউ সেটি স্পর্শ করেনি, খোলা তো দূরের কথা। সম্প্রতি সেই বোতলটি খুঁজে পেয়েছেন প্রকৌশলীরা। সেটি খুলে পাওয়া গেছে ১৩২ বছর আগে লিখে রাখা বার্তাও। আর তাতে কী লেখা আছে তাও উদ্ধার করতে পেরেছেন তারা। প্রকৌশলীরা বলছেন, এটি আবিষ্কার করার অনুভূতি আসলে সহজ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। কয়েক প্রজন্ম আগের কয়েক জন মানুষের নাম, হাতের ছোঁয়া লেগে থাকা বোতলটি আসলেই বিস্ময়কর।
বিবিসি বলছে, স্কটল্যান্ডের দক্ষিণের ক্রসওয়াল লাইট হাউজে ওই বোতলটি পাওয়া যায়। স্কটল্যান্ডের কোনো বাতিঘরে বোতলবন্দি অবস্থায় বার্তা পাওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। বিবিসি বলছে, পালক এবং কালি ব্যবহার করে লেখা এই বার্তা ৪ সেপ্টেম্বর ১৯৮২ সালের। চিঠিতে তিনজন প্রকৌশলীর নাম লেখা আছে, যারা ৩০ ফুট টাওয়ারে একটি নতুন ধরনের আলো স্থাপন করেছিলেন।
এই বোতলে পাওয়া কাগজে বাতিঘরের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা তিনজনের নামও পাওয়া গেছে।
আট ইঞ্চি দৈর্ঘ্যরে বোতলটি রস রাসেল নামের এক প্রকৌশলী খুঁজে পেয়েছেন। তিনি নর্দান লাইট হাউজ বোর্ডের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। বিশেষ পরিদর্শনের সময় তিনি বোতলটি খুঁজে পান।
তিনি বিবিসিকে জানান, একটি আলমারিতে প্যানেল সরানোর পরে তিনি এটি দেখতে পান। তবে সেটি হাতের নাগালের বাইরে ছিল। পরে তিনি তার আরও সহকর্মীকে ডেকে সেটি দেখান। পরে তারা একটি দড়ি এবং একটি ঝাড়ুর হাতল দিয়ে তৈরি বিশেষ একটি ফাঁদের মতো তৈরি করে সেটি নামিয়ে আনেন। আর নামানোর পরই তাদের চক্ষু ছানাবড়া হয়ে যায়। তবে তখনই তারা সেটি খোলেননি। তারা বাতিঘরটির রক্ষক ব্যারি মিলারের পৌঁছা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন।
মিলার বিবিসিকে বলেন, ঘটনাটি আসলেই বিস্ময়কর। এতদিন ধরে এত পুরনো একটি জিনিস আমার মাথার ওপরই ছিল অথচ আমি জানতে পারিনি। অবশ্য তারা সেটি খুঁজে পাওয়ার পরও সেটি খুলেননি, আমার জন্য অপেক্ষা করেছেন। এটি আমার জন্য আরও গর্বের।
মিলার বলেন, বোতলটি সাধারণত সেই আমলের তেল বহনের পাত্র বলেই মনে হয়। সেই বোতলেই এতদিন আটকে ছিল ১৩২ বছর আগের কথা, কিছু মানুষের নাম, স্মৃতি। ঘটনাটি আসলেই বিস্ময়কর।