বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ‘যারা গণতন্ত্র ও নির্বাচন আড়াল করতে চায়, তারা পক্ষান্তরে ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে চিহ্নিত হবে। চারদিকে এক ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে। এই ষড়যন্ত্রে পা দেওয়া যাবে না। ধৈর্যের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে তৈরি থাকতে হবে। তারেক রহমান বিচক্ষণতার সঙ্গে বলেছেন, এই সরকারের ব্যর্থ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এজন্য এ সরকারকে আমরা সহযোগিতা করছি। একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর আগ পর্যন্ত আমাদের তৈরি থাকতে হবে।’
গতকাল রবিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জাতীয় নাগরিক ফোরামের উদ্যোগে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনা, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান প্রেক্ষিত আজকের বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুদু এ কথা বলেন।
শামসুজ্জামান দুদু আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, স্বাধীনতা ও সম-অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। যে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র অর্জন করেছিলাম, নিজের হাত দিয়ে কবরস্থ করেছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। রক্ষীবাহিনী দিয়ে প্রায় ৪০ হাজারের ওপরে বিরোধীদলীয় নেতাকে হত্যা করেছেন। গুম-খুন তখনই শুরু হয়েছে। ১৯৭৩ সালে নির্বাচনী ব্যবস্থা একেবারে ধ্বংস করে ফেলেছিলেন তিনি। দুর্ভিক্ষ হয়ে পথে-ঘাটে লাখ লাখ মানুষ মারা গেছে। শেখ হাসিনা তার বাবার আমলকে ভোলানোর জন্য সংবিধানে বিশেষ আইন তৈরি করে দেশের শিশু-কিশোরদের ভুল ইতিহাস শিক্ষা দিয়েছেন।’
জাতীয় নাগরিক ফোরামের চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব তোফায়েল আহমেদ কায়সারের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাসাসের সাবেক সভাপতি রেজাবুদ্দোলা প্রমুখ।
এদিকে গতকাল দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নামে সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক পার্টি আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা বিদায় নিলেও তার প্রেতাত্মাদের দিয়ে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। আজ (গতকাল) নাকি আওয়ামী লীগ মিছিল নিয়ে বের হবে। কিন্তু দুঃখজনক, বিদেশে বসে ভাঁওতাবাজি করে জনগণকে একত্র করতে পারবেন না। ভুয়া আওয়াজ দিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে আর দ্বিধাগ্রস্ত করতে পারবেন না।’ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ করে দ্রুত নির্বাচনী রোডম্যাপ দিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানানোর পাশাপাশি সংস্কারের নামে নির্বাচন বিলম্ব না করারও আহ্বান জানান তিনি।
জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান এসএম শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় বিএনপির মীর সরফত আলী সপু, সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর আমির হোসেন আমু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
বিক্ষোভ মিছিল : এ ছাড়া আওয়ামী লীগের নাশকতা ঠেকাতে গুলশানে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। গতকাল দুপুরে গুলশান থানা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা গুলশান-১ কাঁচাবাজার থেকে গুলশান-২ গোল চত্বর পর্যন্ত এ বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা।
এ সময় বিএনপি নেতা কামাল জামান মোল্লা, গুলশান থানা বিএনপির আহ্বায়ক এসএ মামুন, সদস্য সচিব শাহজাহান কবির, গুলশান থানা যুবদলের সদস্য সচিব মেহরাব জাবিন ফারুক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য সৃষ্টির বিরুদ্ধে গতকাল সকালে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদল মিছিল করেছে। মিছিলটি বাইতুল মোকাররম হাউজ বিল্ডিং এলাকা থেকে শুরু হয়ে পল্টন মোড়, মুক্তাঙ্গন, সচিবালয়, আওয়ামী লীগের কার্যালয় ঘুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেকের নেতৃত্বে মিছিলে দক্ষিণের আহ্বায়ক খন্দকার এনামুল হক এনাম, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আশিফুর রহমান বিপ্লব প্রমুখ অংশ নেন।