বরিশাল

লঞ্চ থেকে পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর ঝাঁপ, লাশ উদ্ধার

বরিশালে লঞ্চ থেকে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হওয়া আলো মজুমদার (৩৭) নামে এক পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর লাশ নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে কীর্তনখোলা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। 

নিহত আলো মজুমদার পটুয়াখালী জেলা পুলিশের পরিদর্শক অনুপ রায়ের স্ত্রী এবং দুই সন্তানের জননী। পরিবারের ভাষ্যমতে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন।

বরিশাল সদর নৌ-থানার এসআই মো. আসাদুল আল গালিব জানান, সোমবার রাতে বরিশাল নৌ-বন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া এমভি সুন্দরবন-১৬ লঞ্চ থেকে রাত ১১টার দিকে ওই নারী নদীতে ঝাঁপ দেন। ফেসবুকে লাইভে আসা এক যাত্রীও এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। বিষয়টি জানার পর নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ডকে জানানো হয়, তবে রাতের অন্ধকারে খোঁজাখুঁজি সত্ত্বেও তাকে পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার সকালে চরমোনাই ইউনিয়নের পশুরকাঠি এলাকায় কীর্তনখোলা নদীতে তার মরদেহ ভাসমান অবস্থায় দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

নিহতের ভাই মঞ্জু মজুমদার জানান, তার বোন মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন এবং সেই সমস্যার কারণে গত কয়েক বছর ধরেই পরিবারে অস্থিরতা বিরাজ করছিল। সোমবার সকালে আলো মজুমদার মোবাইলে টাকা রিচার্জ করার কথা বলে বাসা থেকে বের হন। এর পর আর ফিরে আসেননি। এ ঘটনায় এয়ারপোর্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছিল।

লঞ্চের কেরানি মো. বাবুল জানান, রাত ১১টার দিকে বামনীচর এলাকা অতিক্রম করার সময় এক নারীকে নদীতে ঝাঁপ দিতে দেখা যায়। ডেকের যাত্রী ও লঞ্চের কর্মীরা প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে তাকে খুঁজতে চেষ্টা করেন, তবে কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

বরিশাল সদর নৌ-থানার ওসি সনাতন চন্দ্র সরকার বলেন, ৯৯৯-এ কল পাওয়ার পরই অভিযান শুরু হয় এবং মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের পরই মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে জানা যাবে। পুলিশের ধারণা, মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে আলো মজুমদার এ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।