অমর একুশে বইমেলা আগামী বছর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হচ্ছে না। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় গত ৬ নভেম্বর বাংলা একাডেমিকে চিঠি দিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছে। বাংলা একাডেমিকে দেওয়া গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পরিবর্তে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণেই অমর একুশে বইমেলা-২০২৫ আয়োজন করতে হবে।
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম অবশ্য বলেছেন, বইমেলা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে করতে তিনি আবারও চেষ্টা করবেন।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অধিশাখা-৩ থেকে বাংলা একাডেমি কর্র্তৃপক্ষকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, বিগত ২১ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পরিবর্তে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণেই অমর একুশে বইমেলা ২০২৫ আয়োজন করতে হবে। সে ক্ষেত্রে আগামী বইমেলার আয়োজন কোথায় হবে, তা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
এক দশক ধরে অমর একুশে বইমেলা বাংলা একাডেমির পাশাপাশি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কিছু অংশ নিয়ে আয়োজিত হচ্ছে। মেলার বেশিরভাগ স্টলের বরাদ্দও হয় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। ২০২৩ ও ২৪ সালে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান মিলে বইমেলা আয়োজিত হয়েছে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ বর্গফুটের বেশি জায়গা নিয়ে। তবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অমর একুশে বইমেলার আয়োজন হবে কি না, তা নিয়ে কয়েক বছর ধরেই আলোচনা চলছে। বইমেলা বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ থেকে পূর্বাচলে নিয়ে যাওয়ার কথাও শোনা যাচ্ছিল কয়েক বছর ধরে।
এ বিষয়ে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অমর একুশে বইমেলা করা যাবে না, এমন সিদ্ধান্ত জানিয়েছে গণপূর্ত ও গৃহায়ন মন্ত্রণালয়। তারা বলেছে, একাডেমির চত্বরের ভেতরে মেলার আয়োজন করার কথা। তবে বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে আপিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বইমেলা করতে চাই।’
১৯৭২ সালে ভাষার মাসে বাংলা একাডেমি চত্বরে চাটাই বিছিয়ে বই বিক্রি শুরু করেছিলেন মুক্তধারা প্রকাশনার প্রতিষ্ঠাতা চিত্তরঞ্জন সাহা। ১৯৮৪ সাল থেকে বাংলা একাডেমি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আলোকে অমর একুশে গ্রন্থমেলা নাম দিয়ে ধারাবাহিকভাবে মেলা পরিচালনা করছে। ২০২১ সাল থেকে মেলার প্রাতিষ্ঠানিক নামকরণ করা হয় অমর একুশে বইমেলা।