সাভারে এসআই হত্যা

পুলিশ পরিচয় পেয়ে হামলাকারীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৯ এএম

ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের এসবির উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাব হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাটি ‘বিচ্ছিন্ন বিষয়’, সেখানে পুলিশ ‘টার্গেট’ ছিল না বলে জানিয়েছে র‌্যাব। সংস্থাটি বলছে, একজন সাধারণ নাগরিককে বাঁচাতে গিয়ে মাদকাসক্ত ও কিশোর গ্যাংয়ের উগ্র আচরণের শিকার হয়েছেন ওই কর্মকর্তা। প্রাণ বাঁচাতে পাশেই ছেলের কারখানায় আশ্রয় নেন এসআই আলতাব। তবে শেষরক্ষা হয়নি। কারখানার দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পিটিয়ে জখম করা হয় তাকে ও তার ছেলেকে। পুলিশ পরিচয় দেওয়ার পর হামলাকারীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব ও পুলিশ। মুন্সীগঞ্জ থেকে চারজনকে র‌্যাব-১০ এবং আমিনবাজার থেকে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৪। এ ছাড়া ঘটনার মূলহোতা জহিরুলকে গ্রেপ্তার করে সাভার থানা পুলিশ। গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন আলাউদ্দিন, আপন, জিহাদ, ইমরান, নূর মোহাম্মদ রুদ্র, রাকিব মিয়া, ছাব্বির আহম্মেদ ও ওয়াসিম। তাদের সবার বাড়ি আমিনবাজার এলাকায়। গতকাল সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. আসাদুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

আসাদুজ্জামান বলেন, ঘটনার সময় স্পেশাল ব্রাঞ্চে (এসবি) কর্মরত এসআই আলতাব হোসেন সিভিল পোশাকে ছিলেন। স্থানীয় গ্যারেজ মালিক আবুল কালাম আজাদকে কয়েকজন মাদকাসক্ত ও অপরাধী অহেতুক মারধর করতে থাকলে তিনি বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে এসআই আলতাফের ওপর হামলা চালায় তারা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এসআই আলতাব নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। এতে হামলাকারীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। দৌড়ে তার ছেলের কারখানায় আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা ২৫-৩০ জনের একটি দল জড়ো করে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে এসআই আলতাব ও তার ছোট ছেলে আরিফুলকে হাতুড়ি, এসএস পাইপ ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারধর করে। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এসআই আলতাব মারা যান। তার ছেলে আরিফুল বর্তমানে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। গত রবিবার র‌্যাব-১০-এর মুন্সীগঞ্জের লঞ্চঘাট এলাকা থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার আপন সাভার থানার তিনটি মাদক মামলার আসামি। এর মধ্যে কিশোর গ্যাং লিডার ও হত্যাকা-ের মাস্টারমাইন্ড আপন ও জিহাদ সরাসরি সম্পৃক্ত। এ ছাড়া মূলহোতা জহিরুলকে সাভার থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এদিকে একই ঘটনায় র‌্যাব-৪-এর একটি দল আমিনবাজার এলাকা থেকে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করে।

জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা হত্যাকা-ে সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলে দাবি করেন র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক। তিনি বলেন, তারা ওই এলাকায় কিশোর গ্যাং সদস্য ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত বলে নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঘটনাটি অত্যন্ত নৃশংস, তবে এটি কোনো পূর্বপরিকল্পিত বা পুলিশকে টার্গেট করে হামলা ছিল না; বরং একজন সাধারণ নাগরিককে বাঁচাতে গিয়ে মাদকাসক্ত ও কিশোর গ্যাংয়ের উগ্র আচরণের শিকার হতে হয়েছে ওই কর্মকর্তাকে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার এবং বিচারে সোপর্দ করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আসাদুজ্জামান বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধি, যেকোনো সাধারণ নাগরিকও তাদের সামনে ঘটে যাওয়া অপরাধের আসামি বা অপরাধীকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করার আইনি অধিকার রাখেন। অথচ দেখি, মানুষ ভিডিও করতে ব্যস্ত থাকেন। নাগরিকের দায়িত্বের জায়গা থেকে এ ধরনের ঘটনায় প্রতিহত করার প্রয়োজনীয়তা ও সচেতনতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

মূলহোতা জহিরুলের পাঁচ দিনের রিমান্ড : মামলার প্রধান আসামি জহিরুলকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে দিয়েছে আদালত। একই মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আরও দুই আসামি দেলোয়ার ও বিল্লাহরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল ঢাকা জেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা সিদ্দিকার আদালত শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিবাদ : এসআই আলতাবকে হত্যার ঘটনায় গভীর শোক ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। একই সঙ্গে ঘটনা জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। গত রবিবার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন স্বাক্ষরিত এক শোক ও প্রতিবাদ বার্তায় এ দাবি জানানো হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত