বনানীতে চক্ষুসেবা ক্যাম্প ‘আমরা বিএনপি পরিবারের’

জুলাই-আগস্টের গণ-আন্দোলনে চক্ষু হারানো ও ক্ষতিগ্রস্ত এবং নিম্নবিত্ত মানুষের চক্ষুসেবার উদ্দেশ্যে প্রখ্যাত চক্ষুবিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ‘বিনামূল্যে চক্ষুসেবা ক্যাম্প’ পরিচালনা করেছে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক তারেক রহমানের নির্দেশনায় গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর বনানীতে এ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।

প্রধান অতিথি হিসেবে এ ক্যাম্প উদ্বোধন করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমনের সভাপতিত্বে ‘চক্ষুসেবা ক্যাম্প’ উদ্বোধনের আগে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল, বিএনপির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সহ-সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল, বিএনপি নেতা তাবিথ আউয়াল, ইশরাক হোসেন, এসএম জাহাঙ্গীর, ব্যবসায়ী জামাল কামাল মোল্লা, মামুনুর রশীদ, মোহাম্মদ ফরিদ ও মো. শামীম মিয়া প্রমুখ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, সদস্য মাসুদ রানা লিটন, মুস্তাকিম বিল্লাহ, ফরহাদ আলী সজীব, শাকিল আহমেদ প্রমুখ।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক নাসরিন রহমান পপি, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান রনি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহসভাপতি শারিফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মহান, মিনার হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক তাওহীদ আহম্মেদ স্বপ্নীল, শাহানুর ইসলাম সিফাত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রুবেল পারভেজ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, নিজের সঙ্গী-সাথী ফেলে দিয়ে স্বার্থপরের মতো পালিয়ে গেছেন শেখ হাসিনা। তিনি আরও বলেন, ‘কয়েক দিন আগে তারা নূর হোসেন দিবসে ঢাকা শহর নাকি উথাল-পাতাল করে দেবে, ওইদিন আমাদের দলের নেতাকর্মীরা কয়েকটি মিছিল করেছে, ওদের মতো তো মোড়ে মোড়ে বন্দুক নিয়ে পাহারা দেয়নি, তারপরও তো ওদের কোথাও দেখা যায়নি, কই যুবলীগ? কই ছাত্রলীগ? কারণ শেখ হাসিনা তাদের লুটপাটের জন্য তৈরি করেছিলেন। ফরিদপুরের ছাত্রলীগের নেতা ২ হাজার কোটি টাকা পাচার করেছিলেন। শেখ হাসিনা তার নেতাকর্মীদের বলেছিলেন, “তোরা যত পারোস লুটপাট কর, কিন্তু বিএনপিকে বের হতে দিবি না, বের হলেই হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়বি।” এটাই ছিল শেখ হাসিনার নীতি। তার পরিণাম হয় ভয়াবহ, তাই হয়েছে। নিজের সঙ্গী-সাথী ফেলে দিয়ে স্বার্থপরের মতো পালিয়ে গেছেন শেখ হাসিনা।’

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘শেখ হাসিনা আপনার মতো একজন রক্তপিপাসু নরঘাতক এক নায়কের আর এই দেশে ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের কোনো সুযোগ নেই। আপনি শিশুদের রক্ত পান করা একজন রক্তপিপাসু নারী। আপনি যে পাপ করেছেন, যে হত্যালীলা চালিয়েছেন, এর জন্য হয় আল্লাহর কাছে মাফ চান, না হলে শয়তানের মতো চিরদিনের জন্য অভিশপ্ত হয়ে থাকবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই শেখ হাসিনা শুধু নিজের ক্ষমতাকে ধরে রাখার জন্য বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব জিম্মি করে দিয়েছিলেন পাশের দেশের কাছে। এখন জনগণের একটাই দাবি, শেখ হাসিনা ২০০৯ সাল থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত যত চুক্তি করেছেন, সেই চুক্তিগুলো অন্তর্বর্তী সরকার প্রকাশ করুক। তিনি দেশের কত বড় ক্ষতি করে গেছেন, তার প্রমাণ তো আমরা দেখতে পাই।’

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘শেখ হাসিনার কোনো দেশপ্রেম ছিল না। তার ছিল ভারতপ্রেম। ওই একটা-ই প্রেম ছিল শেখ হাসিনার। কারণ তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক। সুতরাং তার প্রেম কার সঙ্গে ছিল এইটা জনগণ জানত এবং বুঝত।’

অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে বিএনপি নেতা রিজভী বলেন, ‘আপনাদের তো সব গণতান্ত্রিক দল, ছাত্র-সংগঠন সমর্থন দিয়েছে কিন্তু আমরা এখনো দেখতে পাই স্বাস্থ্য বিভাগে যারা অন্যায় করেছেন দীর্ঘদিন, শুধু এটা একটা টেকনিক্যাল খাত, এখানে ডাক্তার যিনি হবেন, তার যোগ্যতা দিয়ে হবেন, তিনি ভালো ডাক্তার কি না, তিনি উন্নতমানের চিকিৎসক কি না, সেটা আওয়ামী লীগ বিবেচনা করেননি। বিএনপি করত কোনো ডাক্তারের বাবা, চাচা, মামা, শ^শুর তাদের কোনো পদোন্নতি হয়নি, তাদের কোথাও পদায়নও করা হয়নি। স্বাচিপ নামে তাদের একটি সংগঠন আছে, আজকেও অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ওই স্বাচিপের চিকিৎসকদের ঢাকা মেডিকেলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পদায়ন করছে। এগুলো যদি অন্তর্বর্তী সরকার না দেখে বিপদ তো তাদেরও হবে, আমাদের হবে। কোনো ফাঁক দিয়ে যদি ওই দানবরা ঢুকে পড়ার চেষ্টা করে, তাহলে তো অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য শুভ হবে না।’

‘আমরা বিএনপি পরিবার’ আয়োজিত এই ‘চক্ষুসেবা ক্যাম্প’-এর কার্যক্রম চলে সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত। এতে প্রায় ৪০০ জন সেবা গ্রহণ করেন। এ সময় বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, জুনিয়র কনসালট্যান্ট, স্বেচ্ছাসেবকসহ ২৫ জনের একটি মেডিকেল টিম এ ক্যাম্প পরিচালনা করে।