বগুড়ায় ফ্রিজে গৃহবধূর লাশ

র‌্যাব বলেছিল খুন করে ছেলে পুলিশের দাবি ভাড়াটিয়া

ছেলে সাদ নয়, বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় গৃহবধূ উম্মে সালমাকে হত্যার পর লাশ ডিপ ফ্রিজে তুলে রাখে বাড়ির ভাড়াটিয়া মাবিয়া আক্তার ও তার দুই সহযোগী। প্রাথমিক তদন্ত শেষে এমনটাই জানিয়েছে বগুড়া জেলা পুলিশ। যদিও এর আগে উম্মে সালমা হত্যায় তার ছেলে সাদ বিন আজিজুর রহমান জড়িত বলে দাবি করেছিল র‌্যাব।

গত রবিবার দুপচাঁচিয়ার জয়পুরপাড়া এলাকার নিজ বাড়িতে হত্যার শিকার হন উম্মে সালমা। এর দুদিন পর তার ছেলে সাদ বিন আজিজুর রহমানকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে র‌্যাব কর্মকর্তারা দাবি করেছিলেন, হাতখরচের টাকা না দেওয়ায় সাদ তার মাকে হত্যা করেছে। তবে পুলিশ বলছে, ছেলে সাদ নয়, এ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত অন্য তিনজন। তাদের ইতিমধ্যে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে বগুড়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত সুপার ও মিডিয়া মুখপাত্র সুমন রঞ্জন সরকার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের নতুন এসব তথ্য জানান।

পুলিশের হাতে গ্রেপ্তাররা হলো নিহত উম্মে সালমার বাড়ির চারতলার ভাড়াটিয়া দুপচাঁচিয়া উপজেলার চামরুল ইউনিয়নের উত্তর সাজাপুর গ্রামের আইয়ুব আলীর স্ত্রী মাবিয়া বেগম (৫০), গুনাহার ইউনিয়নের তালুচ পশ্চিমপাড়ার আবদুর রহিমের ছেলে মোসলেম উদ্দিন (২৬) ও একই এলাকার নিখিল রবিদাসের ছেলে সুমন রবিদাস (২৮)। গ্রেপ্তারের পর গতকাল বিকেলে তাদের আদালতে হাজির করা হয়।

উম্মে সালমাকে হত্যার পর খুনিরা লাশ ফ্রিজে রেখে দেয়। এ হত্যাকাণ্ডের দুদিন পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য উম্মে সালমার ছোট ছেলে সাদ বিন আজিজুর রহমানকে আটক করে র‌্যাব। পরদিন র‌্যাব কর্মকর্তারা বলেন, সাদ নিজেই তার মাকে হত্যার কথা স্বীকার করে। আর এখন পুলিশ বলছে, সাদদের বাড়ির ভাড়াটিয়া মাবিয়া আক্তার তার দুই সহযোগী সুমন এবং মোসলেমকে নিয়ে উম্মে সালমাকে হত্যা করেছেন।

দুপচাঁচিয়া থানা পুলিশ জানায়, সালমা হত্যাকাণ্ডের সময় তার বাসা থেকে খোয়া যাওয়া ইন্টারনেটের ওয়াইফাই রাউটার এবং দুটি মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তারা প্রথমে আটক করে ভাড়াটিয়া মাবিয়া আক্তারকে। গ্রেপ্তার মাবিয়া পুলিশকে জানায়, চার মাস আগে উম্মে সালমার বাসা ভাড়া নিয়ে তিনি সেখানে মাদক কারবারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি টের পাওয়ার পর উম্মে সালমা ও তার স্বামী আজিজুর রহমান মাবিয়াকে এক মাস ধরে বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলছিলেন। তার কাছে দুই মাসের ভাড়াও পাওনা ছিল। বিষয়গুলো নিয়ে উম্মে সালমার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন মাবিয়া। তাই তিনি তার সহযোগী এবং মাদক কারবারি সুমন ও মোসলেমকে নিয়ে সালমাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন মাবিয়া প্রথমে সালমার বাসায় ঢোকেন। পরে মোবাইল ফোনে কল করে ডেকে নেন দুই সহযোগী সুমন ও মোসলেমকে। তারা দুজন বাসায় ঢুকেই চেতনানাশক স্প্রে করে উম্মে সালমাকে অচেতন করেন। এরপর তার নাক, মুখ ও হাত বেঁধে বাসার ডিপ ফ্রিজে ঢুকিয়ে রেখে তারা তিনজন সেখান থেকে বেরিয়ে যান।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন রঞ্জন সরকার বলেন, ‘আটকের পর মাবিয়া, সুমন ও মোসলেম হত্যার কথা স্বীকার করে ঘটনার পুরো বিবরণ দিয়েছে। পরে তাদের দেখানো জায়গা থেকে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত জিনিসপত্র এবং ওই বাসা থেকে খোয়া যাওয়া জিনিসপত্রগুলো উদ্ধার করে।’