অন্তর্বর্তী সরকারের কাঁধে ফ্যাসিবাদের ভূত চেপেছে : সালাম

অন্তর্বর্তী সরকারের কাঁধে ফ্যাসিবাদের ভূত চেপেছে মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম বলেছেন, ‘আপনারা বলে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনের জন্য অভ্যুত্থান হয়নি। তাহলে কীসের জন্য অভ্যুত্থান হয়েছে? আমরা দীর্ঘকাল ধরে ভোট দিতে পারিনি। এদেশের মানুষকে দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। এজন্য এদেশের মানুষ ভোটের জন্য, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জন্য ক্ষুব্ধ ছিল। এখন আপনারা যদি বলেন নির্বাচনের প্রয়োজন নেই তাহলে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়।’

গতকাল রবিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও দেশনায়ক তারেক রহমানসহ সব রাজনীতিবিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের’ দাবিতে ‘জাগ্রত বাংলাদেশ’ এ সভার আয়োজন করে।

‘জাগ্রত বাংলাদেশ’-এর সভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম কলিমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোজাম্মেল হোসেন শাহীনের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবীবুর রহমান হাবীব ও নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, সাবেক ছাত্রনেতা, সম্পাদক ও প্রকাশক দৈনিক আজকের জীবন সফিকুর রহমান সফিক, প্রজন্ম অ্যাকাডেমির সভাপতি লেখক ও গবেষক কালাম ফয়েজী, যুবদলের সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক এস এম মিজানুর রহমান, ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মনিরুল ইসলাম সোহাগ, জাগ্রত বাংলাদেশ-এর সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা রমিজ উদ্দিন রুমী, রাজু আহমেদ শাহ, প্রজন্ম অ্যাকাডেমির অর্থ সম্পাদক আবু হায়দার, মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম’র সাধারণ সম্পাদক ও প্রতিবাদ’র সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের সিনিয়র সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, শোয়েব কোরাইশী, আবুল হোসেন দুলাল প্রমুখ।

আব্দুস সালাম বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করুন সমস্যা কেটে যাবে এবং ভুল কম হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। যে ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে গণ-অভ্যুত্থান হলো তাদের রাজপথে প্রতিবাদ করতে হচ্ছে। এর চেয়ে দুর্ভাগ্য আর কী হতে পারে। কোনটা আগে করবেন, কোনটা পরে করবেন সেটাই ঠিক করতে পারেন না। দুর্নীতিবাজ, খুনিরা পালিয়ে গেল। তাদের ধরতে পারলেন না। তাদের শাস্তি দেবেন কী করে। অন্যরা তো ক্ষমতায়ই ছিল না, তাহলে তাদের ব্যাপারে আপনাদের বিরূপ মন্তব্য কেন থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কর্মজীবন শেষ করে অনেকেই রাজনীতিবিদ হতে চান। এমপি-মন্ত্রী হয়ে নিজের কৃতিত্ব জাহির করতে চান। বিগত সরকারের আমলে দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীরা ক্ষমতায় ছিল। আমরা তো অনেক দিন ভোটই দিতে পারলাম না। আপনারা বলছেন নির্বাচনের জন্য অভ্যুত্থান হয়নি, তাহলে কীসের জন্য অভ্যুত্থান হলো? ভোট একটি অন্যতম মৌলিক অধিকার। এদেশের মানুষ তো দীর্ঘকাল ভোটের জন্যই আন্দোলন করেছে। পাকিস্তান আমলে আন্দোলন করেছে, মুজিব আমলে আন্দোলন করেছে, শেখ হাসিনার আমলেও আন্দোলন করেছে। শেখ মুজিব রাজনীতিবিদ হয়েও রাজনীতিকে নিষিদ্ধ করেছেন। আর জিয়াউর রহমান রাজনীতিবিদ না হয়েও বহুদলীয় রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করেছেন।’

প্রফেসর ইউনূসের উদ্দেশ্যে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আপনার নোবেলপ্রাপ্তির পর বিএনপি সমর্থিত প্রেসিডেন্ট আপনাকে প্রথম বঙ্গভবনে সম্মাননা জানান। আপনার বিশ্বব্যাপী সম্মান, আপনাকে খালেদা জিয়াও সম্মান জানিয়েছিলেন। অথচ কী আশ্চর্য আপনি ক্ষমতায় আছেন আর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা চলমান আছে। এটা হতে পারে না।’