‘স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা আইন-২০২৪’ প্রণয়ন করতে চায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সে লক্ষ্যে একটি খসড়া অধ্যাদেশ তৈরি করা হয়েছে। জনমত যাচাইয়ে অধ্যাদেশের খসড়াটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে। খসড়া পড়ে যে কেউ এর ব্যাপারে তার মত জানাতে পারবেন।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সরকারি ব্যবস্থাপনা-১ শাখার উপসচিব উম্মে হাবিবা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে গত ১৩ নভেম্বর এই অধ্যাদেশ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশের সিদ্ধান্ত হয়। পরে সেটি গতকাল সোমবার প্রকাশ করা হয়।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৪ এর খসড়ার ওপর জনমত যাচাইয়ের লক্ষে খসড়া অধ্যাদেশটি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশপূর্বক আগামী ১৪ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত উন্মুক্ত রেখে প্রাপ্ত মতামত এ শাখায় প্রেরণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’
অধ্যাদেশের খসড়ার উল্লেখ করা হয়, ‘স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৪’ আইনে পরিণত হলে পাবলিক, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবাদানকারী সব প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য হবে। স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবা গ্রহীতার সুরক্ষা দেওয়া এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়বদ্ধতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে এ অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়েছে।
এতে দেশে নিরাপদ ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান যথাযথভাবে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণে প্রণীত ‘দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অরডিন্যান্স, ১৯৮২’ রহিত করা হবে বলেও উল্লেখ রয়েছে।
খসড়ায় সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত ফি, পরীক্ষা ফি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে নির্ধারণ করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসকদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সময় নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ সরকারি অফিস চলাকালীন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাসেবা দিতে পারবেন না, এমনকি চেম্বার করতে পারবেন না। এর ব্যত্যয় হলে প্রতিষ্ঠানকে ৫ লাখ এবং ব্যক্তিকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করার বিধান রাখা হয়েছে।
খসড়ায় চিকিৎসাজনিত অবহেলার ক্ষেত্রে আদালতের পরোয়ানা ছাড়া গ্রেপ্তার করতে বিধিনিষেধ দেওয়া আছে। এ ছাড়া চিকিৎসকের ওপর হামলা, আক্রমণ কিংবা হুমকির ক্ষেত্রেও আমলযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিধান রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ৩ লাখ টাকা জরিমানা অথবা দুবছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আর চিকিৎসকের কাজে বাধা, হামলা করা হলে কিংবা স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করলে ৫ লাখ টাকা এবং একই অপরাধ দ্বিতীয়বার করলে দ্বিগুণ জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
চিকিৎসায় অবহেলার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী ব্যক্তিকে ১০ লাখ টাকা এবং প্রতিষ্ঠানকে অনধিক ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। একই অপরাধ পুনরায় করা হলে জরিমানা দ্বিগুণ করার বিধান রাখা হয়েছে অধ্যাদেশে।