মানবদেহে ব্যাকটেরিয়া নানা ধরনের রোগের সংক্রমণ ঘটিয়ে থাকে। কিন্তু সেই ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করে যদি ক্যানসার ঠেকানো সম্ভব হয় তাহলে খানিকটা বিস্ময় জাগলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। বিষয়টি বিস্ময় জাগালেও সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে এই চমকপ্রদ তথ্য। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, ‘সালমোনেলা’ নামের এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করে অন্ত্রের ক্যানসার ঠেকানো সম্ভব। বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল এমবো মলিকিউলার মেডিসিনে গবেষণাটি প্রকাশ পেয়েছে। গবেষকরা বলছেন, ব্যাকটেরিয়াটি রোগীর দেহের বিভিন্ন কোষে ক্যানসারের আক্রমণ ঠেকিয়ে দিতে সক্ষম।
সাধারণত ফুড পয়জনিং -এর ঘটানোর সঙ্গে যোগসূত্র রয়েছে সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়ার। এ ছাড়া এই ব্যাকটেরিয়ার আরেকটি ধরন টাইফয়েডের বিস্তার ঘটায়। নতুন গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে, সালমোনেলা ‘টি’ কোষের মাত্রা বাড়ানোর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি এক ধরনের শ্বেত রক্তকণিকা। যা শরীরকে সংক্রমণ ও রোগ থেকে সুরক্ষা দেয় এবং ক্যানসারের কোষ ধ্বংস করতে পারে। ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে গবেষণা দলটি খুঁজে পেয়েছে, সালমোনেলা সাধারণত টি কোষে অ্যাসপ্যারাজিন নামের অ্যামিনো অ্যাসিড কমিয়ে আনার মাধ্যমে ক্যানসার কোষের আক্রমণ ঠেকিয়ে দিতে পারে।
সালমোনেলা সংক্রমণের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে ডায়েরিয়া, পেটে ব্যথা, বমি ও জ¦র। আর এটি সাধারণত ১২ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে শরীরে সংক্রমণ ঘটায়। যার স্থায়িত্ব হতে পারে চার থেকে সাত দিন পর্যন্ত। মুরগি, গরু, শূকর’সহ বেশ কিছু প্রাণীর অন্ত্রে সালমোনেলার উপস্থিতি থাকতে পারে। ব্যাকটেরিয়াটি ডিম, মুরগি ও শূকরের মাংসের মতো খাবারের পাশাপাশি গবাদি পশু ও সারের সংস্পর্শে থাকা ফল ও সবজিতেও সংক্রমণ ঘটাতে পারে।
গবেষণাটির প্রথম লেখক ও ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহাম-এর ইমিউনোলজি বিভাগের গবেষক ড. অ্যালিস্টার কোপল্যান্ড বলেছেন, তাদের এ গবেষণাটি সালমোনেলার মতো রোগবাহী ব্যাক্টেরিয়াকে ক্যানসার ঠেকানোর সহায়ক ব্যবস্থায় রূপান্তর ঘটাতে পারে। তিনি বলেন, এখন আমরা অন্ত্রের ক্যানসারের জন্য দায়ী প্রোটিন চিহ্নিত করেছি। পাশাপাশি আমরা একটি জেনেটিক আচরণ লক্ষ্য করেছি, যা এই থেরাপির সম্ভাবনাকে পুরোপুরি তুলে ধরতে পারে। এ গবেষণায় অর্থায়ন করেছে ক্যানসার রিসার্চ ইউক। প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা প্রধান ড. ক্যাথেরিন এলিয়ট বলেছেন, গবেষণাটি খুবই রোমাঞ্চকর। ভবিষ্যতে মলদ্বারে ও অন্যান্য ক্যানসারের রোগীর জন্য আরও কার্যকর চিকিৎসা ব্যবস্থা তৈরির সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে।