সুদি লেনদেনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়া জঘন্য অপরাধ। মহান আল্লাহ সুদকে হারাম করেছেন। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ ক্রয়-বিক্রয় হালাল করেছেন। আর সুদকে হারাম করেছেন।’ (সুরা বাকারা ২৭৫) সুদখোরের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। সুদের সঙ্গে জড়িত সবাইকে নবীজি (সা.) অভিশাপ দিয়েছেন। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘যে সুদ খায়, যে সুদ খাওয়ায়, যে সাক্ষী থাকে এবং যে ব্যক্তি সুদের হিসাব-নিকাশ বা সুদের চুক্তিপত্র ইত্যাদি লিখে দেয়, সবার প্রতি রাসুলুল্লাহ (সা.) অভিসম্পাত করেছেন।’ (তিরমিজি)
সুদ খাওয়া মায়ের সঙ্গে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার সমান অপরাধ। হাদিসে বর্ণিত আছে, ‘সুদ সত্তর প্রকার পাপের সমষ্টি। তার মধ্যে সবচেয়ে নিম্নতম হলো আপন মায়ের সঙ্গে ব্যভিচার করার সমতুল্য পাপ।’ (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক) সুদ এতই জঘন্য অপরাধ। অথচ সেটা এখন সমাজের পরতে পরতে ছড়িয়ে পড়েছে। পরিবার থেকে পরিবারে। ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে। বয়স্ক, যুবক কেউ বাদ নেই। সুদ খাওয়া যে নিষেধ এবং এত বড় গুনাহ তা মানুষের আচরণ দেখে বুঝতে কষ্ট হয়। বরং কোন ব্যাংকে কত সুদ, কে সুদ বেশি দেয়, কত টাকায় কত সুদ, সেটা নিয়ে রীতিমতো গবেষণা হয়। ব্যবসার সুযোগ আছে, তবে সেখানে নয় বরং সুদে টাকা লাগান অনেকে। আবার অবসর গ্রহণের পর যে টাকা পান তা ব্যাংকে রেখে সুদ খান অনেকে। এটা যে মারাত্মক অপরাধ, সেটা বুঝতেই চান না তারা। বরং ইসলামের বিধানকে নিজের মতো করে মানেন। সেখানে মহান আল্লাহ ও রাসুল (সা.)-এর নির্দেশ হয় উপেক্ষিত। সুদের সঙ্গে জড়িত সবাই অপরাধী। সবার বিচার হবে হাশরের দিন। কারণ মহানবী (সা.) অভিশাপ দিয়েছেন সুদখোরকে, সুদদাতাকে, সুদের লেখককে ও সাক্ষীকে।
বিভিন্ন নামে, বিভিন্নভাবে সুদ দেয় ব্যাংকগুলো। নাম যাই হোক। আসলে তা সুদ। সেখানে লাভ-লোকসানের ঝুঁকি নেই। সুদ মূলধন বৃদ্ধি করে না। সম্পদও বাড়ায় না। দৃশ্যত মনে হয়, টাকা তো জমা থাকল। আবার মুনাফাও পেলাম। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘মানুষের সম্পদ বাড়ানোর উদ্দেশে তোমরা যে সুদ দিয়ে থাকো আল্লাহর দৃষ্টিতে তা সম্পদ বৃদ্ধি করে না। কিন্তু আল্লাহর সন্তষ্টি লাভের উদ্দেশে তোমরা যে জাকাত দিয়ে থাকো তা বৃদ্ধি করে। প্রকৃতপক্ষে জাকাত প্রদানকারীরাই সমৃদ্ধশালী।’ (সুরা রুম ৩৯)
সুদ না খেয়েও ভালো থাকা সম্ভব। পরিবারকে সুখী করা যায়। অর্থনীতিকভাবে স্বনির্ভর হওয়া সম্ভব। মহান আল্লাহ ও রাসুল (সা.) সে পথ বাতলে দিয়েছেন। ইসলাম ব্যবসা করতে উৎসাহিত করেছে। হালাল উপার্জনের সুন্দর মাধ্যম ব্যবসা। ব্যবসায় স্বাধীনতা আছে। নিজস্ব চিন্তা-চেতনার বাস্তবায়ন সম্ভব। বিশ্বনবী (সা.) নিজে ব্যবসা করেছেন। অসংখ্য নবী-রাসুল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ব্যবসা করে সৎভাবে সম্পদশালী হোন। ইসলামে কোনো বারণ নেই। বরং সৎভাবে সম্পদ উপার্জন করে নিজের চাহিদা মেটানো যায় খুব সহজে। বলা হতে পারে, ব্যবসায় তো ঝুঁকি আছে। ঝুঁকি থাকলেও ব্যবসাই উত্তম। যে ব্যবসার বাজার আছে, সেটা বেছে নিতে হবে। ব্যবসায়ীদের অনেক মর্যাদা। আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, সত্যবাদী ও আমানতদার ব্যবসায়ী (কিয়ামতের দিন) নবী, সিদ্দিক ও শহীদদের সঙ্গে থাকবে। (তিরমিজি) সুদের কুফল বলে শেষ করা যাবে না। এককালে কর্মক্ষম মানুষ ছিলেন। এখন অলস বসে থাকেন। সব বাজে চিন্তা মাথায় ঘোরে। বাজে কাজের সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েন। কারণ আপনি সুদখোর। বসে বসে টাকা পাওয়া যায়। এই লোভ আপনাকে অক্ষম করে দিচ্ছে। শারীরিকভাবে তো বটেই, মানসিকভাবেও। অবস্থাটা এখন এমন। সুদ না খেলে বুঝি ভালোই থাকা যাবে না। এমন ধারণা ছড়িয়ে পড়েছে। যেটা শুধু ভুল নয়। বরং মারাত্মকভাবে সমাজকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থার উত্তরণ সম্ভব। আর কেউ নয়, বরং আপনি নিজেই তওবা পড়ে ফিরে আসতে পারেন। সুন্দর ব্যবসায় সুখী হতে পারেন। দেশ, জাতি ও পরিবারকেও সুখী করতে পারেন।