প্রসিকিউশনের সংবাদ সম্মেলন

আন্তর্জাতিকভাবে প্রশ্নের সমাধান সংশোধিত এই আইন

‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’-এর গেজেট জারি করেছে সরকার।

গতকাল সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সংবাদ সম্মেলন করে আইনের সংশোধন ও বিদ্যমান আইনে কী কী পরিবর্তন হয়েছে তা তুলে ধরে প্রসিকিউশন শাখা।

প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম বলেন, ‘একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে করা যেসব মামলা চলছিল, তা সংশোধিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনেও চলবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখানে বলে দেওয়া হয়েছে যে, এ সংশোধনী ২০০৯ সাল থেকে কার্যকর হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ন্যায়বিচারের স্বার্থে ও বিচারের আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে এই সংশোধনী আনা হয়েছে। আইনটি সংশোধন করে আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রেখে এবং আসামি ও ভুক্তভোগীদের সব ধরনের সুবিধা ও আন্তর্জাতিক মান করার জন্য এ সংশোধনী আনা হয়েছে। আইনে যেসব দুর্বলতা ছিল ও আন্তর্জাতিকভাবে যে প্রশ্নগুলো আইনটি সম্পর্কে তোলা হতো, সেসবের সমাধান করে এই সংশোধনী আনা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আগের আইনে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থেকে মানবতবিরোধী অপরাধ করলে বিচার হতো। এখন দেশের অভ্যন্তরে বা দেশের বাইরে থেকে কেউ এ ধরনের অপরাধ করলে এই আইনে বিচার করা যাবে। আবার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কোনো বিদেশি যদি এই আইনে অপরাধ করে তাহলে তাকেও বিচারের আওতায় আনা যাবে।’

বিশ্লেষণ করে ট্রাইব্যুনালের এই প্রসিকিউটর বলেন, ‘আগে প্রসিডিংসের আগে ‘ডিফেন্সকে (আসামিপক্ষ) তা প্রস্তুত করতে তিন সপ্তাহ সময় দেওয়া হতো, এখন তা বাড়িয়ে ছয় সপ্তাহ করা হয়েছে। আগে প্রসিকিউশন সীমিত নথিপত্র ডিফেন্সকে দিতে পারত, এখন আদালতের অনুমতি নিয়ে যেকোনো নথিপত্র চাইলে পাবে। এ ছাড়া আগে অভিযোগের শুনানির সময় আসামিপক্ষকে তার সব সাক্ষীর (সাফাই সাক্ষী) নাম বা তালিকা দিতে হতো। এখন বিচারের যেকোনো সময় সাক্ষীকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে পারবে ডিফেন্স।’

তিনি বলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনীর কোনো সদস্যের (মেম্বার অব আর্মড ফোর্স) বিরুদ্ধে আগে ওই আইনে বিচার করা যেত। এখন সংশোধিত আইনে মেম্বার অব ডিসিপ্লিনারি ফোর্স বা তিন বাহিনীর সঙ্গে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, গোয়েন্দা সংস্থা ও আনসার বাহিনীকেও এখানে যুক্ত করা হয়েছে।’

সংশোধিত আইনে গুমের অপরাধে বিশেষভাবে এই ট্রাইব্যুনালে বিচার করা যাবে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘আগের আইনে ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কোনো বিধান ছিল না। সংশোধিত আইনে এ বিধান রাখা হয়েছে। অপরাধীর যদি সম্পদ থাকে, রাষ্ট্র থেকে ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া যাবে।’

আইনের কিছু পরিবর্তনের কারণে মামলার বিচারকাজে বিলম্ব হবে কি না এমন প্রশ্নে গাজী এম এইচ তামিম বলেন, ‘সেটির সেফগার্ড (নিরাপত্তা) এখানে রাখা হয়েছে। আসামি ও ডিফেন্সকে সব সুবিধা দিয়ে বলে দেওয়া হয়েছে যে, বিচারে যেন অযৌক্তিক বিলম্ব না হয়, সে ব্যাপারে ট্রাইব্যুনাল যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিচারের কোনো পর্যায়ে যদি বোঝা যায় যে, আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ এ আইনের আওতায় পড়ে না, তবে ট্রাইব্যুনাল তা নিয়মিত আদালতে পাঠিয়ে দিতে পারে।’