দায়িত্বের প্রথম দিনেই তিন দেশে বাড়তি শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

আগামী ২০ জানুয়ারি দায়িত্বগ্রহণের প্রথমদিনেই মেক্সিকো ও কানাডা থেকে আমদানি করা সব পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ এবং চীনা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মূলত যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসন এবং মাদক চোরাচালান রুখতে এই পদক্ষেপ নিচ্ছেন ট্রাম্প। আগামী বছরের ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণের পরপরই শুল্প আরোপ করে নির্বাহী আদেশে সই করবেন বলেও জানান তিনি।  

স্থানীয় সময় সোমবার (২৫ নভেম্বর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

এরপর আরেকটি পোস্টে ট্রাম্প জানান, চীনের সরকার যতক্ষণ পর্যন্ত দেশ থেকে সিন্থেটিক ওপিওড ফেন্টানাইল বা কৃত্রিম ওপিওড পাচার বন্ধ করবে না ততদিন পর্যন্ত চীনের উপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ থাকবে।

এছাড়া মেক্সিকো এবং কানাডা এই দুই দেশ মাদক (বিশেষ করে ফেন্টানাইল) এবং অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমকারী অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত তাদের ওপর বাড়তি শুল্ক বহাল থাকবে বলেও জানান ট্রাম্প।

ট্রাম্প বলেন, মেক্সিকো ও কানাডা-দুই দেশেরই অবৈধ অভিবাসী সংক্রান্ত এই দীর্ঘদিনের সমস্যা সহজেই সমাধান করার পূর্ণ অধিকার ও ক্ষমতা রয়েছে। আমরা তাদের কাছে এই ক্ষমতা ব্যবহারের দাবি করছি এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা তা করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের বড় মূল্য দিতে হবে।

এদিকে ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের এক মুখপাত্র বিবিসিকে বলেন "চীন জেনেশুনে যুক্তরাষ্ট্রে ফেন্টানাইল পাচার করছে, মার্কিন প্রশাসনের এমন ধারণা অসত্য।“

মুখপাত্র আরও বলেন, "চীন বিশ্বাস করে যে চীন-মার্কিন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সহযোগিতা প্রকৃতিগতভাবে পারস্পরিকভাবে উপকারী। বাণিজ্য যুদ্ধ বা শুল্ক যুদ্ধে কেউ জয়ী হবে না।"

এর আগে নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে চীনা পণ্য আমদানিতে তিন ৬০ শতাংশ বা তার বেশি শুল্ক আরোপ করবেন। 

এর আগে বাইডেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে চীনকে আহ্বান জানানো হয়, তারা যেন ফেন্টানাইলের উৎপাদন বন্ধ করতে আরও পদক্ষেপ নেয়। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, গত বছর অন্তত ৭৫ হাজার মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর পেছনে কারণ ছিল ফেন্টানাইল।