লেবাননে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ২ মাসেরও বেশি সময় ধরে বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। তবে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি চুক্তির ঘোষণা আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন লেবানন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা।
হিজবুল্লাহর সঙ্গে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিষয়ে আজ মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) ইসরায়েলি মন্ত্রিসভায় ভোট হবে। ইতিমধ্যে চুক্তির পরিকল্পনাটি "নীতিগতভাবে" অনুমোদন দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।
যুদ্ধবিরতির চুক্তি সম্পর্কে জানে এমন একটি সূত্রের বরাতে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন।
সোমবার, নেতানিয়াহুর মুখপাত্র সিএনএনকে জানিয়েছেন যে, ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা মঙ্গলবার প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ভোট দেবে এবং আশা করা হচ্ছে যে চুক্তিটি পাস হবে।
যুদ্ধবিরতির চুক্তি সম্পর্কে জানে, এমন সূত্রগুলো বলেছে, এখন পর্যন্ত আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। তবে তারা এ-ও স্বীকার করেছেন যে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ প্রতিনিয়ত একে অপরের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তাই সামান্য ভুলে আলোচনা ভেস্তে যেতে পারে।
তবে সোমবার সন্ধ্যার পরে, যুদ্ধবিরতির চুক্তির আলোচনার সাথে পরিচিত একজন লেবানিজ কর্মকর্তা বলেছিলেন যে "২৪ ঘন্টার মধ্যে" যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে লেবাননে যুদ্ধবিরতির চুক্তি হতে পারে এমন খবরে ইসরায়েলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। দেশটির কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভির চুক্তিটিকে একটি "বড় ভুল" বলে অভিহিত করে বলেছেন, ‘এখনই হিজবুল্লাহকে নির্মূল করার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ।"
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েল এবং ইরান-সমর্থিত লেবানিজ গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে লড়াই শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্র ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব করেছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হলে আশা করা হচ্ছে এর মাধ্যমে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি সম্ভব।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার এবং ওই এলাকায় হিজবুল্লাহর উপস্থিতির অবসানের বিষয়টি রয়েছে বলে জানা গেছে।
