চট্টগ্রামে হত্যাকাণ্ড ও নাশকতায় জড়িতদের সবাইকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। একইসঙ্গে দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানিয়ে কোনো ফাঁদে পা না দিতে আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলা হয়। এ ছাড়া চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হত্যার প্রতিবাদে আজ বুধবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শোক ও সম্প্রীতি সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক কমিটি আইনজীবী সাইফুল হত্যাকাণ্ডের দ্রুত তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। এ ছাড়া দেশে চলমান অস্থিতিশীলতার দায় নিয়ে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সরকারকে ত্বরিতগতিতে ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
চট্টগ্রামের ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দেওয়া পোস্টে বলা হয়, ‘সারা দেশের সম্মানিত আলেম- ওলামাসহ সাধারণ জনগণকে ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানাচ্ছি আমরা। কোনো চক্রান্তের ফাঁদে পা দেব না আমরা। আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্ব আমাদেরই। চট্টগ্রামে হত্যাকাণ্ড ও নাশকতায় যারা জড়িত, তাদের সবাইকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। আমরা সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী। আমাদের এই সম্প্রীতিকে বিনষ্ট করার জন্য নানান ষড়যন্ত্র চলছে। ধৈর্য, ধৈর্য এবং ধৈর্য।’
অন্যদিকে চট্টগ্রামের ঘটনায় গতকাল রাতে জাতীয় নাগরিক কমিটির দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সরকার ও প্রশাসন নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে আমাদের আজকের এই ঘটনা দেখতে হতো না। আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে বিগত বেশ কিছুদিন ধরে দেশজুড়ে অশান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কতিপয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহিংসতার ঘটনাসহ বিভিন্ন আশঙ্কাজনক পরিস্থিতিতে সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকে নিষ্ক্রিয় অবস্থান লক্ষ করা যাচ্ছে। এ ছাড়াও সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কাজে অদূরদর্শী ভূমিকাও দেখা যাচ্ছে। এতে করে পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি নানাবিধ ষড়যন্ত্র করার সুযোগ পাচ্ছে।’
চলমান পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরের গণহত্যাকারী পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি এবং দেশের বাইরের ষড়যন্ত্রকারীরা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর পাঁয়তারা করছে উল্লেখ করে নাগরিক কমিটি বলেছে, ‘আমরা সারা বাংলাদেশের নাগরিকদের আহ্বান জানাই আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কোনোভাবেই প্রতিক্রিয়াশীল ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন না এবং আধিপত্যবাদী শক্তিকে নিজেদের ক্রীড়নক বানাতে দেবেন না। দিল্লির এবং পতিত ফ্যাসিবাদী গণহত্যাকারী দলের পাতা ফাঁদে আমরা পড়তে যাচ্ছি। দেশের নাগরিকরাই পারে এই ষড়যন্ত্র রুখে দিতে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমাদের সকলকেই দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে এগিয়ে আসতে হবে। চট্টগ্রামসহ সকল স্থানে নাগরিকদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।’