শিশুর শীতপোশাকে আরাম ও সুরক্ষা দুটোই দরকার হয়। এর পাশাপাশি যোগ হয়েছে পোশাকটা ফ্যাশনেবল কি না। ব্র্যান্ডের পোশাকের পাশাপাশি নন-ব্র্যান্ডে আছে শীতপোশাকের বিপুল বৈচিত্র্য। নানা রংয়ে রঙিন শীতের পোশাকের খবর জানালেন মোহসীনা লাইজু
ডিজাইন বৈচিত্র্য
শিশুদের শীতের পোশাক মোটা সুতি কাপড় ও ফ্লানেল কাপড়ের হলে শিশুরা পরে আরাম পায়। বিশেষ করে উলেন পোশাকের নিচে পাতলা সুতি কাপড়ের ইনার থাকলে আরও ভালো। হালকা শীতে শিশুকে খুব মোটা কিংবা খুব বেশি গরম কাপড় পরানো উচিত নয়। বেশি গরম কাপড় পরালে গরমে ঘেমে ঠান্ডা লাগার আশঙ্কা থাকে।
এবারের মেয়েশিশুর শীতের পোশাকে রয়েছে দারুণ বৈচিত্র্য। লং সোয়েটার, কোর্ট, লং ফ্রক যেমন আছে তেমনি আছে নানা ধরনের জিপার জ্যাকেট ও হুডি। এ ছাড়াও আছে ডেনিমের বর্ণিল রঙের প্যান্ট ও হুডি। হুডি ছাড়া রেকসিন, চামড়ার লং জ্যাকেটও আছে। টি-শার্টের আদলে মেশিনে বোনা উলেন সোয়েটারও পাবেন নানা রঙে। সে ক্ষেত্রে গোলাপি, কালো, নীল, সাদা রঙগুলো বেছে নিতে পারেন।
শীতল ডিপার্টমেন্ট স্টোরের শিশুর শীতের পোশাকে জিনসের ফ্রক, স্কার্ট, উলেন সেট, বেবিকিপার, রেকসিনের জ্যাকেট, ওভারকোট, কার্ডিগান, উল ও ক্যাশমেয়ার বেশি চোখে পড়ছে। এ ছাড়া বৈচিত্র্যময় মাফলার, নতুন ডিজাইনের কানটুপি এসেছে। ছোট ছোট মাফলারে নানারকম ঝুল বেশ আকর্ষণীয় দেখাবে পরার পর। সুতির স্কার্ফও আরামদায়ক ও আকর্ষণীয় শীতে শিশুর জন্য। আরো আছে ছেলে শিশুদের জন্য ডোরেমন, স্পাইডারম্যান, ব্যাটম্যান, হ্যারি পটার, আয়রনম্যান, পোকেমন কার্টনের ডিজাইন করা শীতের প্যান্ট সেট।
বড়দের শীতের হুডির মতো শিশুদের জন্যও হুডিযুক্ত জ্যাকেট আছে। ছেলেশিশুদের জন্য এমন ধরনের পোশাকের চাহিদা বেশি এমনটা জানালেন গুলশান বিগ বসের বিক্রেতা ফাহিম সারোয়ার। বিশেষ করে যে শিশুরা আলাদা টুপি ব্যবহার করতে চায় না তাদের জন্য এমন পোশাকই সেরা। হুডির আছে নানা ধরন। কোনো কোনো হুডিতে টুপি খুলে পরা যায়। কোন কোন হুডির দুপাশই ব্যবহার করা যাবে এমন করে ডিজাইন করা হয়েছে। আর হুডির ফেব্রিকস হিসেবে নিট, ডেনিম, গ্যাবাডিন, মখমল দেখা যাচ্ছে। এ ছাড়া শীতে দাওয়াতে পরার জন্য ছেলেশিশুদের আছে সেরওয়ানি সেট ও স্যুট-কোট । স্যুটের সঙ্গে বো টাইও কিনতে পাবেন। মেয়েশিশুদের জন্য পাবেন নানা রঙের ব্লেজার। অল্প শীতে পরার জন্য ছেলেশিশুদের জন্য আরো আছে ফ্লানেল ও ডেনিমের শার্ট-জ্যাকেট। ফুলহাতা শার্ট, সোয়েট শার্ট কিংবা পোলো শার্ট যেমন পাবেন আবার পাবেন খাদির তৈরি জ্যাকেট।
শীতে শিশুদের পোশাকের তালিকায় সোয়েটার আছে সবসময়ই। বিভিন্ন ধরনের সোয়েটার রয়েছে। এসব সোয়েটারের লেন্থ শট, মিডিয়াম ও লং। আর রঙের ক্ষেত্রে আছে লাল,গোলাপি,বেগুনি, কমলা। মেশিনে বোনা এসব সোয়েটার আবার আলাদা নকশা খুঁজে পাবেন। পাথর, চুমকি ও বিভিন্ন ধরনের বোতাম ব্যবহার করা হয়েছে। শীতে শিশুর লেগিংসও ট্রাউজার দরকার হয়। একরঙা লেগিংসের পাশাপাশি ছাপার লেগিংস, জেগিংস, ট্রাউজার ও প্যান্ট পাবেন। বাজারে এখন রঙবেরঙের টুপি আর মোজা পাওয়া যাচ্ছে। চাইলে এ সময় বাজার থেকে শিশুকে পা-ঢাকা জুতাও কিনে দিতে পারেন।
কোথায় পাবেন
আমাদের দেশের শীতের পোশাক দেশে তৈরির পাশাপাশি চায়নাও থাইল্যান্ড থেকেও আমদানি করা হয়। এসব পোশাক কিনতে যেতে পারেন বসুন্ধরা সিটিমল, যমুনা ফিউচার পার্ক, রাপা প্লাজা, সানরাইজ প্লাজা, আড়ং, ইস্টার্ন প্লাজা, পলওয়েল মার্কেট, গুলশান পিংক সিটি, কর্ণফুলী গার্ডেনসহ বিভিন্ন শপিংমলে। তবে একটু কম দামে ভালো মানের শীতের পোশাক কিনতে চাইলে যেতে পারেন আজিজ সুপার মার্কেট, মৌচাক মার্কেট, ঢাকা কলেজের বিপরীতে, নিউমার্কেট, গাউছিয়াসহ বিভিন্ন মার্কেটে। গুলশান-১ ডিসিসি মার্কেটে।
দরদাম
শিশুদের সোয়েটার পাওয়া যাবে ২০০ থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে, রেকসিনের জ্যাকেট পাওয়া যাবে ৮০০-২০০০ টাকার মধ্যে, চামড়ার জ্যাকেট ১৫০০-৪০০০ টাকা, জিনসের জ্যাকেট পাওয়া যাবে ৪০০- ১৫০০ টাকার মধ্যে, কানটুপি ১০০-৪০০ টাকা, মাফলার ৬০-২০০ টাকা, হুডি জ্যাকেট ২৫০-১৫০০ টাকা, হাত ও পা মাজার সটের দাম পড়বে ১৫০-৩০০ টাকার মধ্যে, ডেনিমের প্যান্ট ৩০০-১০০০ টাকার মধ্যে, স্পাইডারম্যান মোটা গেঞ্জি ১৫০-৪০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে।
যা খেয়াল রাখবেন
শীতে শিশুদের সর্দি, কাশি, ঠান্ডা বা কমন কোল্ড, গলা ব্যথার মতো সাধারণ কিছু রোগবালাইয়ের প্রকোপ বেশি দেখা দেয়। এ ছাড়া অনেক শিশু নিউমোনিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জা, এডিনয়েডের মতো অসুখের কবলে পড়ে। এসব অসুখের বেশির ভাগ সাধারণত ঠান্ডাজনিত রোগ। মূলত শীত থেকে শিশুকে সুরক্ষা দিতে না পারার কারণেই এসব অসুখ-বিসুখ বেশি হয়ে থাকে।
এ জন্য শিশুর শীতের পোশাক খুব জরুরি একটি জিনিস। শীতকালে শিশুকে যেন ঠান্ডার কবলে পড়তে না হয় তার প্রতি মনোযোগ দিতে হবে। হালকা শীতে বেশি গরম কাপড় পরানো যেমন চলবে না, তেমনি ভারী শীতে আবার হালকা কাপড় পরানো যাবে না। এতে হিতে বিপরীতও হতে পারে। বেশি গরমে শরীর ঘেমে কাপড়ের নিচেই শুকিয়ে যেতে পারে। এতে শিশু ঠান্ডাজাতীয় অসুখ-বিসুখে ভুগতে পারে।
স্কুলে যাওয়ার সময় স্কুল ড্রেসের বাইরেও অতিরিক্ত আরেকটি শীতের পোশাক শিশুকে পরিয়ে দিন। কান, মাথার জন্য আলাদা টুপি, মাফলার পরিয়ে দিতে পারেন। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে বেশি নজরদারি রাখতে হবে। রাতের বেলায় যেন পর্যাপ্ত উষ্ণতা পায় সেটি নিশ্চিত করুন। শিশুদের পায়ে রাতে মোজা এবং দিনের বেলায় নরম কাপড়ের জুতা পরিয়ে দিন। এতে পা শীত থেকে রক্ষা পাবে। শিশু অনেক সময় শীতের পোশাক পরে থাকতে অনীহা দেখাতেই পারে। সে ক্ষেত্রে তাদের শীত পোশাকের ভালোমন্দ বুঝিয়ে পোশাক পরিয়ে দিতে হবে। শিশুর বয়স যদি বেশি হয়, তবে পছন্দ অনুযায়ী শীতের পোশাক কিনে দিন। তাহলে সে নিজ থেকেই পোশাকটি পরতে আগ্রহী হবে।
শিশুদের শীতের পোশাক নরম আর পাতলা হওয়া ভালো। কারণ খসখসে অথবা শক্ত কাপড়ে তাদের সংবেদনশীল ত্বকে ক্ষতি হতে পারে। গরম উলের ভারী শীতের পোশাকের নিচে সুতি কাপড়ের পাতলা আরেকটি গেঞ্জি-জাতীয় পোশাক পরিয়ে দিতে পারেন। শীতের সময় এমনিতেই বাতাসে ধুলাবালি ও ময়লার প্রাদুর্ভাব বাড়ে। এ সময় এসব ময়লা থেকে শিশুর শরীরে চুলকানি, খোসপাঁচড়াসহ নানা রকম ত্বকের অসুখ হতে পারে। শীতের পোশাক এক সপ্তাহ পর পর সাবান পানিতে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে নিন। একই পোশাক টানা কয়েক দিন পরানো থেকে বিরত থাকুন।