সিরাজগঞ্জ পিজিসিএলের প্রধান কার্যালয়ের জিএমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের নলকা এলাকায় অবস্থিত পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (পিজিসিএল) প্রধান কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক (জিএম-প্রশাসন) সাহিনুর আলমের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। গত ২৫ নভেম্বর সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল এলাকার আফসার আলী নামের পিজিসিএলের এক গ্রাহক সচেতন মহলের পক্ষে কোম্পানির চেয়ারম্যান বরাবর এ লিখিত অভিযোগ করেছেন।

এতে বলা হয়েছে জিএম সাহিনুর আলমের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে পিজিসিএলকে রীতিমতো ধ্বংস করা হচ্ছে। এই সিন্ডিকেটের অন্য সদস্যরা হলেন- পিজিসিএলের প্রধান কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক (বিপণন) শৈলজানন্দ বসাক ও ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান। 

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ দিন ধরে জিএম (প্রশাসন) সাহিনুর আলম রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। শতকরা ৩০ থেকে ৪০ ভাগ কমিশনের বিনিময়ে কোম্পানির জিএম সাহিনুর আলম 'চায়না বাংলা লিমিটেড' নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে উন্মুক্ত দরপত্রের শর্ত ভেঙে কাজ পাইয়ে দিয়েছেন। পরে সিন্ডিকেটের সদস্যরা মিলে এ কমিশনের টাকা ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। সাহিনুর আলমের সুকৌশলে চায়না বাংলা লিমিটেড ছাড়াও মার্কেটাইল ও এলএস ইঞ্জিনিয়ারিং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামেও মালামাল ক্রয় দরপত্রে অংশ নিয়েছিলেন। শুধু তাই না, দরপত্রের সম্ভাব্য মূল্যও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে জানিয়ে দেন তিনি। 

ওই লিখিত অভিযোগে দুর্নীতির বিষয়ে বলা হয় যে, গত ২০১৯-২০ অর্থ বছরের ২৭ অক্টোবর দেড় কোটি টাকার পাইপ লাইনের টেপ প্রাইমার ক্রয়ের দরপত্র আহ্বান করে পিজিসিএল। ওই দরপত্রে ইউরোপ আমেরিকার টেপ প্রাইমারের দর ধরে সম্ভাব্য ব্যয় তালিকা করা হয়। চাইনিজ প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় এজেন্ট চায়না বাংলা লিমিটেডের প্রতিনিধি মামুনুর রশিদকে সেই সম্ভাব্য ব্যয় তালিকা সরবরাহ করেন তিনি। এ দরপত্রে অংশ নিয়ে তিনি (মামুনুর রশিদ) সর্বনিম্ন দরদাতা নির্বাচিত হন। পরবর্তী ২০২০-২১ অর্থ বছরে তারা মালামাল সরবরাহ করেন। তবে সরবরাহকৃত মালামাল গুলো পিজিসিএলের দরপত্রের মানের চাহিদা অনুযায়ী ছিল না। তবুও মোটা অঙ্কের কমিশন নিয়ে জিএম সাহিনুর আলম পিজিসিএলের যাচাই কমিটিকে এই মালামাল গুলো গ্রহণ করতে চাপ দেন। সেই চাপে পড়ে যাচাই কমিটি মালামাল গুলো গ্রহণ করতে বাধ্য হন। 
পরবর্তীতে সেই মালামাল গুলো তৎকালীন ডিজিএম দেবদীপ বড়ুয়া গুণগতমান যাচাই করলে গ্রহণযোগ্য হয়নি। মালামাল গুলো কাজের উপযোগী না হওয়ায় আজও পড়ে রয়েছে। ফলে সেখানে পিজিসিএলের প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। 

এ ছাড়াও সাম্প্রতিক সরকারি সিদ্ধান্তে বিভিন্ন গ্রাহকের গ্যাস সংযোগ লিকেজ মেরামতের জন্য জরুরিভাবে ১৫ হাজার ইনসুলেটিং বুশ কেনা হয়েছে। যা বাজার থেকে ৬০ টাকা দরে কিনে ভুয়া বাউচারে ২৫৮ টাকা দরে দেখানো হয়েছে।

এ অভিযোগের বিষয়ে পিজিসিএলের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হলে নিরাপত্তার স্বার্থে তারা মুখ খুলতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুইজন কর্মকর্তা বলেন, জিএম সাহিনুর আলম দীর্ঘদিন ধরে এইসব অপকর্ম করে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে কোনো কর্মকর্তা কিছু বলতে গেলে তাকে নানাভাবে হয়রানি করা হয়। ফলে আমরা নির্বাক হয়ে শুধু দেখে যেতে বাধ্য হচ্ছি।

অভিযোগের বিষয়ে পিজিসিএলের জিএম (প্রশাসন) সাহিনুর আলম বলেন, কোম্পানির কাজের স্বার্থে আমরা এক সঙ্গে অনেক কাজ করে থাকি। তবে এখানে সিন্ডিকেট তৈরি বা অতিরিক্ত সুযোগ গ্রহণ করার কোনো রকম পরিবেশ নেই। অনেক সময় কাজের মৌসুমে স্বাভাবিক সময়ের চাইতে ২/৩ গুণ বেশি দামে মালামাল কিনতে হয়। মৌসুম শেষ হলে দাম কমে যায়। এর মানে এই না আমিই সেটি করিয়েছি।

জিএম সাহিনুর আলম আরও বলেন, গুণগতমান যাচাই কমিটি স্বাধীনভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মালামাল গ্রহণ করে থাকেন। এখানে আমার কোনো হাত নেই। সাম্প্রতি সময়ে একটি কোম্পানি অত্যন্ত খারাপ মালামাল সরবরাহ করেছে। যে কারণে সেই গুলো গুণগতমান যাচাই কমিটি বাদ করে রেখেছে। সেখানে কোম্পানির বিল পরিশোধ করায় এখনও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

এ অভিযোগের বিষয়ে পিজিসিএলের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) জিয়াউল হক স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগের বিষয়টি এখনও আমার নজরে আসেনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্ত করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।