জবাইয়ের সময় বিসমিল্লাহ না বললে গোশত খাওয়া যাবে কি?

গোশত আমাদের প্রিয় খাবার। আমরা কমবেশি সবাই গোশত খেতে পছন্দ করি। একেকজনের পছন্দের তালিকায় একেক ধরনের গোশত থাকলেও সামগ্রিক বিবেচনায় সেটা গোশত এবং আমাদের পছন্দের খাবার। গোশত হালাল হওয়ার জন্য প্রথম শর্ত হলো, পশু-পাখি হালাল হওয়া। ইসলামে তা খাওয়ার ব্যাপারে অনুমতি থাকা। আর দ্বিতীয় শর্ত হলো, সেটার জবাইকারী মুসলিম হওয়া এবং জবাই করার সময় আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা। মুসলিম ছাড়া অন্য কেউ জবাই করলে এবং আল্লাহর নাম ছাড়া অন্য কারও নামে জবাই করলে সেই প্রাণীর গোশত খাওয়া হালাল নয়। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যে পশু জবাই করার সময় আল্লাহর নাম নেওয়া হয়েছে, তা তোমরা খাও।’ (সুরা আনআম ১১৮)

এ ছাড়া জবাই করার সময় প্রাণীর গলার চারটি রগ কাটা প্রয়োজন। এক. কণ্ঠনালি। দুই. খাদ্যনালি। তিন. দুই পাশের মোটা দুটি রগ, যাকে ওয়াদজান বলা হয়। এই চারটি রগ না কেটে যদি চারটির যেকোনো তিনটি কাটা হয়, তবুও গোশত খাওয়া হালাল হবে। কিন্তু তিনটির কম যদি কাটা হয়, তাহলে সেই পশুর গোশত খাওয়া হালাল নয়। (হেদায়া)

বাসাবাড়িতে আমরা নিজেরা যে প্রাণী জবাই করি, সেই প্রাণী এসব নিয়ম মেনেই জবাই করি। কিন্তু বাজার থেকে জবাইকৃত প্রাণীর যে গোশত আমরা কিনে আনি, সেটা জবাইয়ের সময় এসব নিয়ম খেয়াল করা হয়েছে কি না, সেই বিষয়ে সতর্ক থাকা। হোটেলে আমরা যে গোশত খাই, সেটা কোথায় কীভাবে জবাই হয়েছে, সেই বিষয়েও সতর্ক হওয়া ও খোঁজ রাখা কাম্য।

একটি বাস্তবতা হলো, বড় বড় হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলো যাদের থেকে গোশত নেয়, বিশেষ করে মুরগি নেয় এবং আমরা আমাদের বাড়িতে বিবাহসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য যেসব মুরগির দোকান থেকে মুরগি নিই, দেখা যায় প্রতিদিন তাদের কয়েক হাজার মুরগি বিক্রি করতে হয়। তারা হাজার হাজার মুরগি জবাই করেই বিক্রি করছে। এর প্রতিটি মুরগি জবাইয়ের সময় আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয়েছে কি না, সেই ব্যাপারেও আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।

বিসমিল্লাহ তথা আল্লাহর নাম না বলার অনেকগুলো কারণ থাকতে পারে। একটি হলো, মুসলমান হওয়ায় অন্তরে আল্লাহর নাম আছে, কিন্তু জবাই করার সময় ভুলে যায়। তাহলে সেটা খাওয়া যাবে। কিন্তু যদি অলসতায় বা ইচ্ছাকৃত আল্লাহর নাম ছেড়ে দেয়, তাহলে সেটা কোনোভাবেই খাওয়া যাবে না। একজন ব্যক্তি একবারে এক হাজার মুরগি জবাই করছে, এতবার বলতে ভালো লাগছে না বলে অলসতায় বা ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো একটির ক্ষেত্রেও যদি বিসমিল্লাহ আল্লাহর নাম ছেড়ে দেয়, তাহলে সেটা স্পষ্টভাবে হারাম হয়ে যাবে। আর কে বলে দেবে, ওই মুরগিটা কার প্লেটে যাচ্ছে, কে খাচ্ছে? তাই এসব বিষয়ে সতর্কতা কাম্য।

গ্রন্থনা : হুমায়ুন কবীর