ভারতের সঙ্গে সব চুক্তি উন্মোচন এবং অসম ও পরিবেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিল করাসহ ছয়টি দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক কমিটি। ডিসেম্বর মাস জুড়ে ঢাকা ও সারা দেশে এই দফার ভিত্তিতে মাসব্যাপী কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
গতকাল সোমবার রাজধানীর বাংলা মোটরের রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে অবস্থিত জাতীয় নাগরিক কমিটির প্রধান কার্যালয়ে সাধারণ সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন সংগঠনটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।
তাদের অন্য দাবিগুলো হলো ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বহমান নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার নিশ্চিত করতে হবে; দ্রব্যমূল্য জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে; গত ১৫ বছরে হিন্দু-বৌদ্ধসহ সব সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও ভূমি দখলের বিচার নিশ্চিত করতে হবে; পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য স্পষ্ট ভূমিকা নিতে হবে এবং অবিলম্বে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে এসে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
কর্মসূচি ঘোষণা করে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ডিসেম্বর মাস জুড়ে জাতীয় নাগরিক কমিটি বেশ কটি জাতীয় ও স্থানীয় কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আগামী ৬ থেকে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে বসিলা, রাজেন্দ্রপুর, জয়দেবপুর, কাশিমপুর, সাভার, আশুলিয়া, বাইপাইল ও উত্তরায় শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসকে সামনে রেখে সব থানা-উপজেলায় কর্মসূচি পালিত হবে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফ্যাসিবাদী ও গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগের বিগত ১৫ বছরের সব গুম-খুন-ক্রসফায়ার-ধর্ষণসহ সব ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া ডিসেম্বর মাস জুড়ে ঢাকা ও সারা দেশে ৬ দফার ভিত্তিতে কর্মসূচি পালিত হবে।
সংগঠনটির আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, আমরা ৫৯ দফার প্রস্তাবনা তৈরি করেছি। সেটি আগামীকাল মঙ্গলবার (আজ) বেলা ১১টায় সংসদে সংবিধান সংস্কার কমিটির কাছে জমা দেব।
নাসির দাবি করেন, গত ৫ আগস্ট গণরায়ের মাধ্যমে বর্তমান সংবিধান বাতিল হয়ে গেছে। এই সংবিধান আমরা এখন মানি না। ভবিষ্যতেও মানব না। কারণ এই সংবিধান ফ্যাসিবাদের সংবিধান। আগামীকাল (আজ) আমরা যে প্রস্তাবনা দেব, সেখানে এই বিষয়গুলো তুলে ধরব।
বর্তমান সংবিধান গত ১৫ বছরের গুম-খুনের জন্য দায়ী উল্লেখ করে নাসির বলেন, জুলাই-আগস্টে যে ২ হাজার জন শহীদ হয়েছেন, তাদের বিচারে বর্তমান সংবিধান বিভিন্ন জায়গায় বাধাগ্রস্ত করছে। বর্তমান সংবিধান বাতিল করে গণপরিষদের মাধ্যমে সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণে জনআকাক্সক্ষার একটি সংবিধান আমরা চাই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিন বলেন, জাতীয় নাগরিক কমিটি বাংলাদেশের সব জেলায় তার কার্যক্রম পুরোদমে জারি রেখেছে। চলতি মাসের মধ্যেই সব কটি জেলার থানা ও উপজেলা কমিটি ঘোষণা করবে জাতীয় নাগরিক কমিটি। আমাদের সাথে দেশের সম্মানিত জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের যোগাযোগ এবং তাদের পরামর্শ গ্রহণ করার উদ্দেশ্যে একটি পরামর্শক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দুদক সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনা আহ্বানের ভিত্তিতে জাতীয় নাগরিক কমিটি ১৩ দফা সংস্কার প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব হচ্ছে দুদককে একটি সাংবিধানিক তদন্ত সংস্থা হিসেবে গঠন করতে হবে। এ ছাড়াও সংবিধান সংস্কার কমিশনের আহ্বানের ভিত্তিতে আগামীকাল সকাল সাড়ে ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ-পশ্চিম ব্লকের ক্যাবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিতব্য মতবিনিময় সভায় জাতীয় নাগরিক কমিটি তার সংবিধান প্রস্তাব পেশ করবে।
মুখপাত্র আরও বলেন, ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে ‘শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি’ গত রবিবার তাদের রিপোর্ট প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করেছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৫ বছরে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা লুট ও পাচার করেছে গণহত্যাকারী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মাফিয়া সিন্ডিকেট। এই পাচারকৃত বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশে ফেরত আনার জন্য স্পেশাল টাস্কফোর্স গঠন করতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই আমরা।