নামিবিয়ায় প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট

নামিবিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন দেশটির ক্ষমতাসীন সোয়াপো পার্টির নেতা নেতুম্বো নান্দি নাদাইতওয়া। দেশটির নির্বাচন কমিশন বলছে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নান্দি ৫৭ শতাংশের মতো ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পান্দুলেনি ইতুলা পেয়েছেন ৩৬ শতাংশ ভোট। ইতুলা ইনডিপেনডেন্ট প্যাট্রিয়টস ফর চেঞ্জ দলের একজন নেতা। এর মধ্য দিয়ে নামিবিয়ার ইতিহাসে তিনিই হতে যাচ্ছেন দেশটির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট।

নামিবিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে হলে প্রার্থীকে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেতে হয়। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার ঘোষণার পর নিজ প্রতিক্রিয়ায় নান্দি নাদাইতওয়া বলেন, নামিবিয়ার জনগণ শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে ভোট দিয়েছে। জনগণের স্বার্থের কথা বিবেচনায় রেখে রাষ্ট্র পরিচালনা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পাশাপাশি দেশটির জাতীয় পরিষদেও ভোট হয়েছে। সেখানেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে সোয়াপো পার্টি। জাতীয় পরিষদে ৯৬টি নির্বাচনী আসনের মধ্যে ৫১টিতে জয়ী হয়েছে দলটি। পরিষদে আইপিসি ২০টি আসনে জয়ী হয়েছে।

৭২ বছর বয়সী নান্দি নাদাইতওয়া বর্তমানে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন। দেশটির ক্ষমতাসীন দল সাউথ ওয়েস্ট আফ্রিকা পিপলস দলের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে অন্যতম তিনি। ১৯৬০-এর দশকে সোয়াপোতে যোগ দেন নান্দি নাদাইতওয়া। তখন দলটি স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছিল। ১৯৯০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে নামিবিয়া। আর এ স্বাধীনতা অর্জনে দেশটিকে নেতৃত্ব দিয়েছিল সোয়াপো পার্টি। তখন থেকে ক্ষমতায় আছে এ রাজনৈতিক দলটি। এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নান্দি নাদাইতওয়ার জয় পাওয়ায় দলটির ক্ষমতাকালীন সময় আরও দীর্ঘায়িত হল। নামিবিয়ায় গণতান্ত্রিক যুগ শুরু হওয়ার পর নান্দি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ অসংখ্য জ্যেষ্ঠ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তবে দেশটির বেশিরভাগ দলই নির্বাচনের এই ফল প্রত্যাখ্যান করেছে। বিরোধী দল আইপিসি নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ বর্ণনা করে ফল চ্যালেঞ্জ করে আদালতের শরণাপন্ন হবে বলে জানিয়েছে। নামিবিয়ার এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ২৭ নভেম্বর। ভোটের সময় নানা ধরনের কারিগরি ত্রুটি ও ব্যালট পেপারের ঘাটতি দেখা গিয়েছিল। ফল কিছু কিছু জায়গায় ভোট গ্রহণের সময়ও বাড়ানো হয়েছিল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বাধীনতার পর থেকে দেশটির শাসনভার সোয়াপো পার্টির হাতে থাকলেও, সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চমাত্রার বেকারত্ব ও অসমতা নিয়ে দেশের মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছিল। তবে জাতীয় মুক্তিসংগ্রামে ভূমিকার কারণে গ্রামীণ এলাকা এবং বয়স্ক ভোটারদের মধ্যে দলটি শক্ত সমর্থন ধরে রেখেছে। সেই সঙ্গে দলের অন্য সদস্যদের মতো নাদাইতওয়ার বিরুদ্ধে তেমন দুর্নীতির অভিযোগ না থাকায় তিনি সাধারণ নাগরিকদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছেন। একই সঙ্গে এসডব্লিউএপিওর বিভক্ত হয়ে পড়া বিভিন্ন অংশকে ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছেন নাদাইতওয়া। দেশটির স্বাধীনতার পর থেকে তিনি কোনো না কোনো ধরনের নেতৃত্বে রয়েছেন। ফলে পদ্ধতিগত বিষয়গুলো নিয়ে তার ভালো বোঝাপড়া রয়েছে।