আইএমএফের বিদ্যুৎ জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবে সরকারের না

বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে এ খাতে ভর্তুকি কমাতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বাংলাদেশকে যে প্রস্তাব দিয়েছে, সেটি নাকচ করে দিয়েছেন সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা। তারা বলেছেন, এই মুহূর্তে বিদ্যুৎ, জ্বালানির মূল্য বাড়ানো হলে চলমান মূল্যস্ফীতি আরও বাড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বাড়বে জনদুর্ভোগ।

ঢাকায় সফররত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি দল গতকাল বুধবার বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। সেখানেই এসব আলোচনা হয় বলে বৈঠক সূত্র জানিয়েছে। এর আগে প্রতিনিধিদলটি জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সঙ্গেও বৈঠক করেছে।

আগামী বছরের মার্চের শুরুতে আইএমএফের ঋণের চতুর্থ কিস্তির ১ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড় দেওয়ার কথা রয়েছে। ঋণের শর্ত হিসেবে বিদ্যুৎ, জ্বালানিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাত সংস্কার তথা ভর্তুকি কমানোর তাগিদ দিচ্ছে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি। প্রতিবার ঋণের কিস্তি ছাড়ের আগে তারা বাংলাদেশ সফর করে। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও তাদের সহযোগী সংস্থার সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, বৈঠকে বিদ্যুৎ খাতের সামগ্রিক পরিস্থিতি প্রতিনিধিদলের কাছে তুলে ধরা হয়। এ সময় প্রতিনিধিদলটি বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি কমাতে মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব দেয়। কারণ বিদ্যুতে ভর্তুকির জন্য সরকারকে ব্যয় করতে হবে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা।

আইএমএফের প্রস্তাবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ বেড়েছে। তা ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকার ব্যয়বহুল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুতের উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধিসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছে। এ ছাড়া আগামী বছর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি পরমাণু বিদ্যুতের উৎপাদন শুরু হবে। এগুলো তুলনামূলক সাশ্রয়ী। ফলে ভর্তুকির পরিমাণ অনেক কমে আসছে।

এ সময় আইএমএফের প্রতিনিধিদল বিদ্যুৎ বিভাগকে এ-সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা তাদের দেওয়ার প্রস্তাব করে।

বাংলাদেশকে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আইএমএফ বেশ কয়েকটি শর্ত দিয়েছিল। এর মধ্যে একটি ছিল ভর্তুকি হ্রাস করার জন্য বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম বাড়ানো। শর্ত অনুযায়ী বিগত আওয়ামী লীগ সরকার দফায় দফায় গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি করেছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার দাম না বাড়িয়ে ব্যয় সাশ্রয় করার নানা পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ।