চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার প্রধান আসামি চন্দন দাসের ৭ দিন এবং রিপন দাসের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। গতকাল শুক্রবার বিকেলে স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক কাজী শরিফুল ইসলাম শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে পুলিশ উভয় আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আনোয়ারা উপজেলার চাতরী ইউনিয়নের কৈনপুরা জেলেপাড়া থেকে হত্যা মামলার আসামিকে রিপন দাসকে (২৭) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি থানার পাথরঘাটা এলাকার মৃদুল দাসের ছেলে। এর আগে গত বুধবার রাতে কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে মামলার প্রধান আসামি চন্দন দাসকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়। এই নিয়ে হত্যায় জড়িত অভিযোগে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দুজনের ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করা হলে আদালত চন্দন দাসের ৭ দিন এবং রিপন দাসের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।’
নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) তারেক আজিজ জানিয়েছিলেন, রিপন দাস আইনজীবী হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি নয়। তবে হত্যাকা-ের ফুটেজে নীল গেঞ্জি পরিহিত রিপনকে বঁটি হাতে দেখা গেছে।
প্রাপ্ত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আনোয়ারায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি পুলিশ।
গতকাল দুপুরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এ দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।
সকাল থেকেই পুরো আদালত চত্বর ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আদালত রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করার পর হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে আদালত ভবনে স্লোগান দিতে থাকেন অন্যান্য সাধারণ আইনজীবী। এ সময় তারা হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ইসকনকেও নিষিদ্ধের দাবি জানান।
গত ২৬ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশের পর চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজন ভ্যান ঘিরে বিক্ষোভ করে সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকজন। আড়াই ঘণ্টা পর পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে চিন্ময় দাসকে কারাগারে নিয়ে যায়।
এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীর অনুসারীদের সংঘর্ষ হয়। পরে চট্টগ্রাম আদালত ভবনে প্রবেশপথের বিপরীতে রঙ্গম সিনেমা হল গলিতে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে আদালত এলাকায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও পুলিশের কাজে বাধাদানের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি মামলা দায়ের করে।
এছাড়া আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের বাবা বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা এবং ভাই খানে আলম বাদী হয়ে যানবাহন ভাঙচুর ও জনসাধারণের ওপর হামলার ঘটনায় ১১৬ জনকে আসামি করে বিস্ফোরক আইনে আরেকটি মামলা করেন নগরের কোতোয়ালি থানায়।