মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সিরিয়াতে পতন হয়েছে বাশার-আল আসাদের শাসনামলের। ব্যক্তিগত বিমানে করে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক থেকে পালিয়েছেন আসাদ। ইতিমধ্যে রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে বিদ্রোহী গোষ্ঠীরা।
এদিকে দামেস্কের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পরপরই রাজধানীর কুখ্যাত সেদনায়া কারাগারে প্রবেশ করেছেন বিদ্রোহীরা। কারাগারের ফটক খুলে দিয়েছেন তারা। আজ রোববার রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর টেলিগ্রামে এই দাবি জানায় বিদ্রোহীরা।
বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে সেদনায়ার কারাগারে অত্যাচারের অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে। খবর বিবিসি ও আল জাজিরার।
বিদ্রোহী কমান্ডার হাসান আবদুল ঘানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেছেন, হোমস শহরকে ‘পূর্ণাঙ্গভাবে স্বাধীন’ করা হয়েছে। কারাগার থেকে সাড়ে ৩ হাজারের বেশি বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শামের (এইচটিএস) রোববার এই কারাগার থেকে বন্দীদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে জানিয়ে টেলিগ্রামে ঘোষণা করে। এই বন্দীদের মুক্তি "অবিচারের যুগের সমাপ্তি" বলে জানায় তারা।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অযাচাই করা ভিডিওগুলিতে দেখা গেছে যে, অনেক মানুষ কারাগারের মাঠ দিয়ে বেরিয়ে আসছে।
সিরিয়ার কুখ্যাত সেদনায়া কারাগারকে "মানব কসাইখানা" হিসেবে অভিহিত করেছিল জাতিসংঘ। এই কারাগারে আসাদ সরকারের হাজার হাজার বিরোধীদের নির্যাতন ও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। এছাড়া আরও কয়েক হাজার বিরোধীকে সেখানে আটক করে রাখা হয়েছিল।
অ্যাসোসিয়েশন অফ ডিটেনিস অ্যান্ড দ্য মিসিং ইন সেডনায়া কারাগার বলেছে যে মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দিরা দামেস্কের কাছে একটি শহর মানিনের দিকে যাচ্ছিল।
এদিকে বিভিন্ন শহরের দখল নেয়ার পর বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শামের (এইচটিএস) প্রধান আবু মোহাম্মদ আল-জোলানি আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে ভালো আচরণ করতে বিদ্রোহী যোদ্ধাদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন।