স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, ‘সীমান্তে পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বিজিবিকে নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে। ওই রকমই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, প্রস্তুতিও সেই রকমই।’ তিনি বলেন, ‘বিজিবিকে বলা হয়েছে, সীমান্তের কোনো ধরনের উত্তেজনায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। কোনো উসকানি এলে প্রতিহত করতে হবে, ছাড় দেওয়া হবে না। কোনো সময় বিজিবি পিঠ দেখাবে না, বুক দেখাবে।’
গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় পিলখানা বিজিবি সদর দপ্তরের সীমান্ত সম্মেলন কেন্দ্রের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আহতদের বিজিবির সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা বিজিবিকে নির্দেশনা দিয়েছি, যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি রাখার জন্য। তবে সীমান্তে ওই অর্থে সে ধরনের কোনো বড় উত্তেজনা নেই। সীমান্তবর্তী বাংলাদেশি নাগরিকদের বলব, উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা সবসময় প্রস্তুত। সীমান্তবর্তী নাগরিকরা সম্পূর্ণ নিরাপদ।’
বিজিবিকে কী ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিজিবি অভ্যন্তরীণ ও সীমান্তে নিরাপত্তায় কাজ করবে। তবে অভ্যন্তরীণ কাজ কমিয়ে সীমান্তে মনোযোগ দিতে বলেছি।
একই অনুষ্ঠানে কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার র্যাব বিলুপ্তির দাবি জানান। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিকরা র্যাব বিলুপ্তির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
গণ-অভ্যুত্থানে আহত হয়ে বিজিবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের স্বাবলম্বীকরণে পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরের সীমান্ত সম্মেলন কেন্দ্রে সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, বিশিষ্ট চিন্তক, লেখক গবেষক ফরহাদ মজহার এবং সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ।
থার্টিফার্স্টে তরুণরা পানিটানি খায়, প্রকাশ্যে এসব না করার আহ্বান : থার্টিফার্স্ট নাইটে তরুণ প্রজন্ম বিভিন্ন জায়গায় পানিটানি খায়, এ ধরনের কাজ প্রকাশ্যে না করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। গতকাল রবিবার দুপুরে সচিবালয়ে বড়দিন ও থার্টিফার্স্ট নাইট উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসংক্রান্ত এক বৈঠক শেষে তিনি এ আহ্বান জানান।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘থার্টিফার্স্ট নাইটে আমাদের তরুণ প্রজন্ম বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ধরনের পানি-টানি খায়, এ ধরনের কাজ কনফাইন্ড (ঘরের মধ্যে বসে খেতে হবে), রাস্তাঘাটে যাতে কোনো ধরনের অসুবিধা না হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু আমাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আতশবাজি ও ফানুস কোনোটাই অ্যালাউড না, সেহেতু আমরা থার্টিফার্স্ট নাইটে আতশবাজি ও ফানুস উড়ানোর বিষয়ে নিষেধ করেছি, কেউ যেন ফানুস না ওড়ায়।’
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘অনেক সময় থার্টিফার্স্ট নাইটে আমাদের তরুণদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এটা যদি আপনারা আগে থেকে বুঝান যে, এটা করা ঠিক না। এ বিষয়ে আপনারা তাদের নিষেধ করতে পারেন। তাহলে তারা সাবধান হবে।’