বাংলাদেশের জন্য হতাশার রাত। ওয়ার্নার পার্কে ২৯৪ রানের সম্মানজনক সংগ্রহ গড়েও ১৪ বল বাকি থাকতে ৫ উইকেটে ম্যাচ হেরেছে তারা। শেরফান রাদারফোর্ডের ঝড়ো সেঞ্চুরিতে (৮০ বলে ১১৩) ওয়েস্ট ইন্ডিজ তুলে নিয়েছে ওয়ানডেতে তাদের রেকর্ড রান তাড়া করে জয়ের নজির। তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা।
টস জিতে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ এক সময় ৩২০ রানের আশপাশে যাওয়ার সম্ভাবনা জাগালেও ইনিংসের শেষভাগে ছন্দ হারায়। ৫০ ওভার খেলে স্কোর দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ২৯৪। তবে ১৫৫টি ডট বল খেলা এবং মাঝের ওভারগুলোয় ধীর ব্যাটিংয়ে রান চাপে পড়ে যায়। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ নিজেও ১০১ বলে ৭৪ রানের মন্থর ইনিংস খেলেন (স্ট্রাইক রেট ৭৩.২৬)।
তানজিদ হাসান (৬০) ও মিরাজের ৭৯ রানের জুটিতে ভিত পায় বাংলাদেশ। শেষদিকে মাহমুদউল্লাহ (৫০*) ও জাকের আলীর (৪৮) ৯৪ রানের জুটি স্কোরটা ২৯৪ পর্যন্ত নিয়ে যায়।
হারের পর পুরস্কার বিতরণীতে মিরাজ বলেন, ‘(স্কোর নিয়ে) হ্যাঁ, আমরা সন্তুষ্ট। এমন পিচে ২৯৪ খুব ভালো স্কোর। হোপ ও রাদারফোর্ডকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। তারা অসাধারণ ব্যাটিং করেছে। বোলারদের জন্য দিনটা কঠিন ছিল।’
২৯৪ রানের লক্ষ্যে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৮.১ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে মাত্র ২৭ রান তোলে তারা। কিন্তু এরপর ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন শাই হোপ ও শেরফান রাদারফোর্ড। হোপ ৮৮ বলে করেন ৮৬, আর রাদারফোর্ডের ৮০ বলে ১১৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংস ছিল ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া পারফরম্যান্স।
চতুর্থ উইকেটে ৯৯ রানের জুটি গড়েন হোপ ও রাদারফোর্ড। এরপর জাস্টিন গ্রিভসকে (৪১*) সঙ্গে নিয়ে মাত্র ৫৭ বলে ৯৫ রানের অপরাজিত জুটিতে ম্যাচ শেষ করেন রাদারফোর্ড।
বোলারদের শুরুর পারফরম্যান্সের প্রশংসা করলেও মাঝের ওভারগুলোয় উইকেট না পাওয়ায় আক্ষেপ করেছেন মিরাজ। ‘নাহিদ, তাসকিন ও তানজিম ভালো বোলিং করেছে। কিন্তু এরপর মাঝের ওভারগুলোয় আমরা ভালো বোলিং করতে পারিনি। উইকেট পাইনি। এটা হতেই পারে। ওরা ভালো খেলেছে।’
হারের পর দলের ভুলগুলো থেকে শেখার কথা বলেছেন মিরাজ। ‘আমরা অনেক কিছু থেকেই শিখব। আমরা কিছু ভুল করেছি। পরের ম্যাচে কীভাবে ভালো করা যায়, সেদিকে মনোযোগী হবো। এখনো দুটি ম্যাচ বাকি, তাই আমার মনে হয় ভালো সুযোগ আছে।’
সিরিজে টিকে থাকতে হলে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ঘুরে দাঁড়াতে হবে বাংলাদেশকে। মঙ্গলবার একই মাঠে হবে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ।