দেশে বিদেশি কর্মী কত, হিসাব আসবে অর্থনৈতিক শুমারিতে

আজ মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে দেশের চতুর্থ অর্থনৈতিক শুমারির মূল তথ্য সংগ্রহ। ১৫ দিনব্যাপী এই শুমারির তথ্য সংগ্রহের কাজ চলবে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ১১ বছর পর শুরু হওয়া এই শুমারিতে নতুন কিছু খাত যোগ হচ্ছে, এর মধ্যে প্রাধান্য পাবে ই-কমার্স খাত।

তা ছাড়া এ শুমারিতে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠানগুলোর জনবলের ক্যাটাগরি হিসাব করা হবে, জনবলের খাত, কোন দেশের জনবল কত অর্থাৎ দেশে কর্মরত বিদেশি কর্মী কত, নারী-পুরুষের আলাদা হিসাবও এতে উঠে আসবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফার হিসাবও অঙ্কে তুলে আনা হবে এবারের শুমারিতে। আগে এই কয়েকটি বিষয় অর্থনৈতিক শুমারিতে ছিল না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।

সারা দেশে ৯৫ হাজার তথ্য সংগ্রহকারী এবারের শুমারিতে তথ্য সংগ্রহ করবেন। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে প্রতি ১০ বছর পর এমন শুমারি করছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। যদিও নানা জটিলতায় এবার এক বছর দেরি করে অর্থাৎ ১১ বছর পর এ শুমারি পরিচালনা করছে সংস্থাটি। ইতিমধ্যেই প্রচারসহ অন্যান্য প্রস্তুতিও শেষ করা হয়েছে।

শুমারির সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে গতকাল সোমবার আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান ভবনে অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তুলে ধরা হয়। বিবিএসের মহাপরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. হামিদুল হক। উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প পরিচালক এসএম শাকিল আখতার।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অর্থনৈতিক শুমারিতে ৭০টি প্রশ্ন উঠে আসবে। এবারই প্রথমবারের মতো দেশে কতজন বিদেশি কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন, তারা কোন ধরনের প্রতিষ্ঠানে, কোন ধরনের পদে কর্মরত আছেন এবং নারী-পুরুষ কতজন সেসব তথ্য তুলে ধরা হবে।

প্রায় ১১ বছর পর শুরু হওয়া এ শুমারিতে ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৫৭৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। যদিও গত কয়েক বছর শুমারি ও জরিপ বিবিএসের নিয়মিত কাজ হওয়া সত্ত্বেও সবগুলো প্রকল্প হিসেবে নেওয়া হচ্ছে। নানা সমালোচনার মুখে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সদ্য বিদায়ী সচিব ড. শাহনাজ আরেফিন জরিপগুলোকে প্রকল্প আকারে না নেওয়ার কাজ শুরু করেন। ইতিমধ্যে শ্রমশক্তি জরিপ, স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকসসহ বেশ কয়েকটি নিয়মিত জরিপ রাজস্ব বাজেট থেকে করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও এ শুমারি কেন প্রকল্প আকারে নেওয়া হচ্ছে, সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নের জবাবে পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘শুমারি ১০ বছর পরপর করা হয়, জরিপগুলো তিন থেকে চার বছর পরও করা হয়। প্রতিবছরের জরিপগুলো রাজস্ব বাজেট থেকে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে শুমারির কাজগুলো যেহেতু ১০ বছর পর করি, সেজন্য প্রকল্পের আওতায় নেওয়া হয়েছে।’

পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেন বলেন, ‘শুমারির কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে শেষ করার জন্য জিওগ্রাফিকস ইনফরমেশন সিস্টেম (জিআইএস) ও জিও কোড সমন্বয় করে ডিজিটাল ম্যাপ প্রস্তুত করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহে ব্যবহৃত ট্যাবলেটগুলো মোবাইল ডিভাইস ম্যানেজমেন্ট (এমডিএম) সফটওয়্যার ব্যবহার করে কেন্দ্রীয়ভাবে ডিভাইসগুলো নিয়ন্ত্রণ করা হবে।’

প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) এসএম শাকিল আখতার বলেন, মূল শুমারি চূড়ান্ত প্রস্তুতি হিসেবে ইতিমধ্যে মাঠপর্যায়ে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬০০ তালিকাকারীকে প্রশিক্ষণ ও সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪-এ দেশের সব জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে প্রকল্প টিম ব্যাপক প্রচার কার্যক্রম গ্রহণ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪-এর মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামো ও প্রবণতা সম্পর্কে সঠিক ও আপডেটেড তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি বলেন, বিবিএসের কর্মকর্তারা প্রতিটি ধাপে যথাযথ প্রস্তুতি নিয়েছেন। এবারের অর্থনৈতিক শুমারি তথ্য সংগ্রহ পদ্ধতিকে আরও উন্নত করার জন্য প্রচার-প্রচারণা এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম করা হচ্ছে।

এই শুমারির মাধ্যমে দেশের সব ইউনিটকে কাভার করা হবে। অর্থনৈতিক শুমারির এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে অর্থনৈতিক শুমারিতে তথ্য দিন, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে অংশ নিন। সারা দেশে ৯০ হাজার গণনাকারী এই শুমারিতে অংশ নেবেন। ডিজিটাল শুমারিতে ১ লাখ ৪০ হাজার ট্যাব ব্যবহার হবে। বাংলাদেশকে ১৩টি শুমারিতে ভাগ করা হয়েছে।

দেশের সর্বপ্রথম অর্থনৈতিক শুমারি ১৯৮৬ সালে অনুষ্ঠিত হয়, এরপর দ্বিতীয় অর্থনৈতিক শুমারি ২০০১ এবং ২০০৩ সালে পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হয়, তৃতীয় অর্থনৈতিক শুমারি ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে বাংলাদেশের চতুর্থ অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪ সালে হতে যাচ্ছে।