একসময়ের বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা ২০২০ সালে জিম্বাবুয়ে সিরিজের পর থেকে জাতীয় দলের বাইরে। যদিও ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর নেননি, তবে তাকে জাতীয় দলের জার্সিতে আর দেখা যাবে না বলেই মনে হচ্ছে।
অন্যদিকে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুরোধে অবসর ভেঙে ফিরলেও তামিম ইকবাল ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে শেষবার দেশের হয়ে খেলেছেন। বাঁহাতি এই ওপেনারের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না।
সম্প্রতি ভারত সফরে টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট থেকে বিদায় নিয়েছেন সাকিব আল হাসান। দেশের মাটিতে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে শেষ টেস্ট খেলার ইচ্ছা থাকলেও বাস্তবায়িত হয়নি। সাকিবের লক্ষ্য ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি দিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটকে বিদায় জানানো। তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, রাজনীতির প্রভাব এবং ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জে তার ক্যারিয়ার দ্রুত শেষের পথে।
পঞ্চপাণ্ডবের মধ্যে এখন শুধুমাত্র মুশফিকুর রহিম এবং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ খেলছেন। কিন্তু তারাও কতদিন খেলবেন তা অনিশ্চিত। ফলে অভিজ্ঞতার অভাবে জাতীয় দলে সঙ্কট দেখা দিচ্ছে। তরুণরা সুযোগ পেলেও প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স দেখাতে পারছেন না, যা নিয়ে প্রায়ই সিনিয়রদের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হয়।
বাংলাদেশ দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন মনে করেন, জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া মানেই দেশের সেরা ১১ ক্রিকেটারের একজন হওয়া। অভিজ্ঞতার অভাবকে অজুহাত হিসেবে মানতে নারাজ তিনি। সালাহউদ্দিন বলেন, ‘জাতীয় দলে সুযোগ মানে আপনি সেরা। অভিজ্ঞতার দোহাই দিয়ে এখানে ছাড় দেওয়া যাবে না। দুই বা তিন ম্যাচে হলেও ডেলিভারি করতেই হবে।’
জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের মানসিক শক্তি এবং নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন এই কোচ। তিনি বলেন, ‘কোচরা অনেক পরামর্শ দিবে, কিন্তু সব সময় খেলোয়াড়দের নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবেই তারা পরিণত ক্রিকেটার হতে পারবে। উইকেট খারাপ থাকলেও খেলোয়াড়কেই বুঝতে হবে কৌশল কী হবে। এই মানসিক উন্নতি হলে বাংলাদেশ দল ভবিষ্যতে আরও ভালো করবে।’
সালাহউদ্দিন আরও বলেন, ‘খেলোয়াড়দের নিজের মাথায় পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। কোচরা শুধু দিকনির্দেশনা দিতে পারে। মাঠে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত খেলোয়াড়দেরই নিতে হবে। নিজেদের উপর আস্থা রাখলে তারাই একদিন ম্যাচিউরড খেলোয়াড় হয়ে উঠবে।’
বাংলাদেশ ক্রিকেটের পঞ্চপাণ্ডব যুগের বিদায়ঘণ্টা বেজে উঠলেও তরুণদের মধ্যে আশার আলো জ্বালাতে হলে মানসিক প্রস্তুতি এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই হতে পারে একমাত্র পথ।