রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের হাসান নগরে একটি স্ক্রিন প্রিন্টিং কারখানার ভেতর জুয়া খেলছিল কয়েকজন কর্মচারী। এমন সময় কারখানার মালিক তাদের সতর্ক করে জুয়া খেলতে বাধা দেন। এতে কর্মচারীরা প্রথমে বাগ্বিতন্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে মালিককে পেটাতে শুরু করেন। বাঁচার জন্য হাতজোড় করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। পিটিয়ে হত্যা করে ওই কারখানার নিচেই লাশ পুঁতে রাখেন তারা।
নিহত ওই কারখানা মালিকের নাম মো. আলম। নিহত গত ৫ ডিসেম্বর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। ঘটনার পাঁচ দিনের মাথায় গতকাল সেই কারখানার মাটির নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে কারখানার কর্মচারী মিরাজ ও তার বন্ধু রিফাত ও আফজালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কামরাঙ্গীরচর থানার ওসি মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি জুয়াখেলায় বাধা দেওয়ায় ব্যবসায়ী আলমকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত আরও একজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ঘটনাস্থলের ক্রাইম সিন সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণ করেছে সিআইডি (পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ)।’
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘটনার দিন কারখানার ভেতরেই জুয়া খেলছিলেন কর্মচারীরা। তাতে বাধা দিলে আলমকে আঘাত করেন অভিযুক্তরা। এতে ঘটনাস্থলে আলমের মৃত্যু হয়। পরে কারখানার ভেতরেই গর্ত খুঁড়ে তাকে মাটিচাপা দেন তারা।
জানা গেছে, মো. আলম নিখোঁজের পর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও কোথাও তার সন্ধান না পেয়ে কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশের শরণাপন্ন হয় পরিবার। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে আলমের কারখানার এক কর্মচারীকে আটক করা হয়, পরে আরও দুজনকে আটক করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।