ত্রিপুরার হোটেলে থাকতে পারবেন না বাংলাদেশিরা

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য ও আসাম রাজ্যের বরাক উপত্যকার পর এবার বাংলাদেশি পর্যটকদের থাকতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে শিলিগুড়ি। গত সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দিয়েছে গ্রেটার শিলিগুড়ি হোটেলিয়ার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের জেলাটির হোটেল মালিক কর্র্তৃপক্ষ বলছে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা হচ্ছে। তার পরিপ্রেক্ষিতেই শিলিগুড়ির হোটেলগুলোয় বাংলাদেশি পর্যটকদের থাকতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ সিদ্ধান্তের কারণে হয়তো আবাসিক হোটেল খাত ক্ষতির মুখে পড়বে। কিন্তু এর চেয়ে জাতীয় স্বার্থ বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তাৎক্ষণিকভাবে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে বলে আবাসিক হোটেল মালিক কর্র্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। এর আগে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য ও আসাম রাজ্যের বরাক উপত্যকার হোটেল মালিকরাও একই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন। সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট রাজীব দাশ বলেন, আমাদের জাতীয় পতাকার অবমাননা শুধু দেশের জন্য অসম্মানের নয়, এটা আমাদের সবার জন্য অপমানজনক। এর আগে ২ ডিসেম্বর ত্রিপুরার আবাসিক হোটেল মালিকদের সংগঠন ঘোষণা দেয়, সেখানকার কোনো আবাসিক হোটেলে বাংলাদেশি পর্যটকদের থাকতে দেওয়া হবে না। তাদের কোনো পরিষেবাও দেওয়া হবে না। যদিও পরে চিকিৎসাসেবা নিতে যাওয়া বাংলাদেশিদের জন্য নিষেধাজ্ঞা শিথিলের কথা জানানো হয়। এ ছাড়া ৬ ডিসেম্বর আসাম রাজ্যের বরাক উপত্যকার হোটেল মালিকরাও বাংলাদেশিদের পরিষেবা না দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান।

এদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে উদ্ভূত সংকটের কারণে হাজারো মানুষ জীবিকা হারানোর আশঙ্কায় আছেন বলে সতর্ক করেছেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সেন্ট্রাল কলকাতার ব্যবসায়ীরা। তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের চলমান টানাপড়েনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। এই ব্যবসায়ীরা বড় অঙ্কের ঋণ নিয়ে অথবা সম্পত্তি বন্ধক রেখে সেন্ট্রাল কলকাতায় ব্যবসা শুরু করেছেন। ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, মার্কুইস স্ট্রিট ও আশপাশের এলাকায় প্রায় পাঁচ হাজার হোটেল ও গেস্টহাউজ রয়েছে। বর্তমানে সেসব হোটেল-গেস্টহাউজে ঘর ভাড়া নেওয়ার হার ৫ শতাংশেরও কম বলে জানিয়েছেন মালিকরা।

ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের এক বৈঠকে বেশ কয়েকজন সদস্য আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, বাংলাদেশে চলমান অস্থিরতা এবং দুদেশের মধ্যে চলা সম্পর্কের সংকটে অনেক ব্যবসায়ী স্থায়ীভাবে ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হবেন। অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী খান বলেন, বড় হোটেলগুলো হয়তো কিছু সময়ের জন্য এই মন্দা সহ্য করতে পারবে। কিন্তু অনেক ব্যবসায়ী আছেন যারা আর এই ক্রমবর্ধমান ক্ষতির বোঝা টানতে পারছেন না। হোটেল মালিক, মুদ্রা বিনিময়কারী, ট্রাভেল অপারেটর, রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী ও অন্যান্য ব্যবসায়ী মিলিয়ে এই অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সংখ্যা ১৫০-এর বেশি। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর দেওয়া সাময়িক নিষেধাজ্ঞায় পর্যটননির্ভর সিকিমের অর্থনীতিও বড় ধাক্কা খাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।