১৫ বছরে বঞ্চিত ৭৬৪ কর্মকর্তাকে পদোন্নতির সুপারিশ

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে জনপ্রশাসনে বঞ্চিত দাবি করা ১ হাজার ৫৪০ জনের মধ্যে ৭৬৪ জনকে পদোন্নতির সুপারিশ করেছে এ-সংক্রান্ত কমিটি। উপসচিব থেকে সচিব পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে এসব কর্মকর্তাকে পদোন্নতির সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে অবসরে যাওয়া ৯ জন জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিবকে চার ধাপ পদোন্নতি দিয়ে সচিব করার সুপারিশ করেছে পর্যালোচনা কমিটি। একইভাবে ৩৪ জন উপসচিবকে তিন ধাপ পদোন্নতি দিয়ে সচিব করতে বলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পর্যালোচনা কমিটি এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন পেশ করে।

সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ‘পদোন্নতিবঞ্চিত অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আবেদন পর্যালোচনা কমিটি-২০২৪’ এই তালিকা তৈরির কাজ করে। প্রতিবেদনটি পেশ করার সময় প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া উপস্থিত ছিলেন। জমা পড়া ১ হাজার ৫৪০টি আবেদনের মধ্য থেকে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনে সচিব পদে ১১৯ জন, গ্রেড-১ (সচিব মর্যাদা) পদে ৪১, অতিরিক্ত সচিব পদে ৫২৮, যুগ্ম সচিব পদে ৭২ এবং উপসচিব পদে চারজন কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি প্রদান করা যেতে পারে বলে সুপারিশ করা হয়েছে। পূর্বের বা অতীতের কোনো তারিখ থেকে কোনো বিষয় কার্যকর করা হলে তাকে ‘ভূতাপেক্ষ’ বলা হয়ে থাকে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতায় ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত সময়কালে অবসরে যাওয়া কর্মকর্তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ সেপ্টেম্বর পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করে দেয় বর্তমান সরকার। এতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, অর্থবিভাগ এবং আইন ও বিচার বিভাগের প্রতিনিধি ছিলেন।

পর্যালোচনা কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘কমিটির কাছে মৃত্যুবরণকারী কর্মকর্তাদের পক্ষে তাদের পরিবারের সদস্যদের করা ১৯টি আবেদনসহ ১ হাজার ৫৪০টি আবেদন জমা পড়েছিল। প্রাপ্ত আবেদনগুলোর মধ্যে ১৩টি আবেদন বিভিন্ন কারণে কমিটির আওতাবহির্ভূত ছিল। ফলে কমিটি কর্র্তৃক পর্যালোচনাযোগ্য আবেদন ছিল ১ হাজার ৫২৭টি। এসব আবেদন যাচাই-বাছাই করার জন্য কমিটি ২৮টি সভা করে পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্যমে সুপারিশ প্রণয়ন করেছে।’

পর্যালোচনা কমিটি নির্ধারিত ৯০ দিনের আগেই প্রতিবেদন পেশ করায় কমিটির সদস্যদের প্রধান উপদেষ্টা ধন্যবাদ জানান।