গ্যাস্ট্রিক থেকে বাঁচতে যে খাবারগুলো এড়িয়ে চলবেন

গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা সাধারণ মনে হলেও এর কষ্ট কেবল ভুক্তভোগীরাই জানেন। তাই গ্যাস্ট্রিক দেখা দিলে তাদের জীবনযাপনে অনেক পরিবর্তন আনতে হয়। বিশেষ করে খাবারের ক্ষেত্রে অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হয়।

প্রতিদিনের তালিকায় কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকলে এড়িয়ে যেতে হবে। গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভোগা মানুষের জন্য কিছু খাবার এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ,কারণ এগুলো পাকস্থলীতে অ্যাসিডের মাত্রা বাড়িয়ে সমস্যা তৈরি করে।

চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই খাবারগুলো সম্পর্কে-

১. মসলাযুক্ত ঝাল খাবার

মুখরোচক খাবারগুলোতে সাধারণত অতিরিক্ত মসলার ব্যবহার দেখা যায়। মসলা ও ঝাল খাবার পাকস্থলীতে অ্যাসিড বৃদ্ধি করতে পারে। অতিরিক্ত মসলা পেটে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে,যা গ্যাস্ট্রাইটিস বা পাকস্থলীর প্রদাহের ঝুকি বাড়ায়। যাদের পাকস্থলীতে আগে থেকেই আলসার বা ক্ষত রয়েছে, তাদের মসলাযুক্ত খাবার পরিস্থিতি আরও খারাপ করে দিতে পারে । এটি আলসার থেকে রক্তপাত বা ব্যথার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে ।

২. ভাজা-পোড়া খাবার

প্রতিদিন যেসব খাবার আমরা খাই, তার বড় একটা অংশ আটা বা ময়দা। উচ্চ আঁশের পাশাপাশি আটায় গ্লটেক নামক প্রোটিন থাকে । তাই আটা বা ময়দার তৈরি ভাজাপোড়া খাবার খেলে শরীরে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দিতে পারে । বেশি ভাজা খাবার (যেমন সিঙ্গারা, সমুচা, পরোটা) হজমে সমস্যা তৈরি করে। গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা ছাড়াও পেটে ব্যাথা, অ্যালার্জি,পাতলা পায়খানা ইত্যাদি আরোও নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৩. ফাস্ট ফুড বা তৈলাক্ত খাবার

আমাদের শরীরে তেল পরিপাকে বেশি সময় লাগে, ফলে এটি গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। মাছ মাংসের ঝোল খাওয়া বাদ দিতে হবে কারন এতে প্রচুর পরিমানে তেল বা মসলা থাকে। কিছু খাাবার এড়িয়ে চলা ভালো, যেমন -খিঁচুরি, বিরিয়ানি, পোলাও, বার্গার, পিৎজা, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ইত্যাদি খাবারে উচ্চমাত্রার চর্বি থাকে, যা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বাড়ায়।

৪. কফি-চা

কফি বা অতিরিক্ত চা পাকস্থলীতে অ্যাসিড বাড়াতে পারে, বিশেষত খালি পেটে খেলে এ সমস্যা বেশি হয়। চকোলেট পাকস্থলীর নিম্নে এসোফেজিয়াল স্পিঙ্কটারের কার্যকারিতা কমিয়ে অ্যাসিড রিফ্ল্যাক্স সৃষ্টি করতে পারে।

৫. কোমল পানীয়

কোমল পানীয়, সোডা ইত্যাদি গ্যাস তৈরি করে এবং পাকস্থলীর চাপ বাড়ায়। অ্যালকোহল পাকস্থলীর ঝিল্লিকে উত্তেজিত করে এবং অ্যাসিডের মাত্রা বাড়ায় এতে করে প্রচুর পরিমানে গ্যাস্ট্রিকের সম্যাসা বেড়ে যায় ।

৬. অ্যাসিডিক ফল

স্বাস্থ্যকর একটি খাবার হলো ফল। কিন্তু এটি গ্যাস্ট্রিকের রোগীদের জন্য উপকারী নাও হতে পারে। এর কারণ হলো নানা রকম ফল ফ্রুক্টোজের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। এর প্রভাবে শরীরে গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকলে কিছু ফল এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। লেবু, কমলা, টমেটো ইত্যাদি ফল অ্যাসিড উৎপাদন বাড়াতে পারে।

৭. পেঁয়াজ রসুন

অতিরিক্ত কাঁচা পেঁয়াজ ও রসুন গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বাড়াতে পারে। পেঁয়াজের ও রসুনে অনেক উপকারি দিক থাকলেও কিছু ক্ষতিকর দিকও রয়েছে। যেমন পেঁয়াজ-রসুনে থাকা এক ধরনের কার্বোহাইড্রেড ফ্রুক্টোন অনেকের শরীরই হজম করতে পারে না। মানুষের শরীরে প্রবেশের পর এই ফ্রুক্টন যখন ভাঙতে শুরু করে তখন পরিপাক তন্ত্রে গ্যাস তৈরি হয়। তাই পেঁয়াজ রসুন খেলে কারও কারও ক্ষেত্রে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৮. শাকও দুগ্ধজাত খাবার (কিছু ক্ষেত্রে)

শাকে আঁশের পাশাপাশি সেলুলোজ থাকে । সেলুলয়েজ নামক এনজাম মানুষের পরিপাকতন্ত্র নামক কোষ তৈরি করে থাকে । শাক দুপুরে খাওয়া ভালো আর রাতে না খাওয়াই উত্তম। দুধ তাৎক্ষণিক আরাম দিলেও পরবর্তীতে অ্যাসিড উৎপাদন বাড়াতে পারে। দুধের চেয়ে দই খাওয়া শরীরের জন্য বেশ উপকারী।