জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেছেন, যে খুনি হাসিনা এতগুলো মানুষকে খুন করে এই বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছে। যেই খুনি হাসিনা বাংলাদেশের মানুষের দ্বারা বিতাড়িত হয়েছে, সেই খুনি হাসিনাকে আপনারা আশ্রয় দিয়েছেন। যদি এই বাংলাদেশের সঙ্গে আপনারা সম্পর্ক স্থাপন করতে চান, খুনি হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দিন। খুনি হাসিনার বিচার এই বাংলাদেশের মানুষ করবে। তিনি অভিযোগ করেন, শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১-এর পরে বাংলাদেশকে একটি দেশের কাছে ইজারা দিয়ে এই দেশের অস্তিত্ব ও সার্বভৌমত্ব নষ্ট করে দিয়েছিল।
গতকাল শনিবার রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ‘শহীদ পরিবারের পাশে বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে রাজশাহী বিভাগের ৬২ শহীদের মধ্যে ৪২ শহীদ পরিবারের মধ্যে অনুদানের চেক হস্তান্তর করা হয়।
সারজিস আলম বলেন, আমরা ক্ষমতাপিপাসু নই। বিবেকবোধের জায়গায় যদি মনে হয় আপনারা এই অভ্যুত্থানের স্পিরিটের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছেন, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইউনূসও যদি হয়, আমরা তাকেও ছেড়ে কথা বলব না। আমরা বিবেকবোধ বেচে দেওয়া প্রজন্ম না। আমরা বিবেকবোধ বেচে দেওয়া ওই প্রজন্ম হলে ভারতের দালালি করতাম। কিন্তু আমরা তা করিনি, করবও না। আমরা স্পষ্ট করে বলেছি, পৃথিবীর যে কোনো দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক হবে সমতা এবং মর্যাদার। কেউ বিন্দুমাত্র ডমিন্যান্ট করার চেষ্টা করলে তার সঙ্গে চোখ রাঙিয়ে কথা হবে, পুলিশের সামনে বুক পেতে দেওয়া হবে।
প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের প্রসঙ্গ টেনে সারজিস বলেন, এই বাংলাদেশের সংবিধানকে একটি দেশ (ভারত) তাদের ইচ্ছেমতো করেছে। খুনি হাসিনা নির্লজ্জের মতো বাংলাদেশে উপস্থিত থেকে বলে, সে নাকি ভারতকে যা দিয়েছে ভারত সারা জীবন মনে রাখবে! আপনাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কী হবে সেটা আপনারা আপনাদের কাজের মাধ্যমে নির্ধারণ করবেন।
২৪-এর অভ্যুত্থানে শহীদদের কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনের সমালোচনা করে সারজিস বলেন, ৭৫-এর ১৫ আগস্ট শেখ মুজিব ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার বিচারের জন্য যদি শেখ মুজিবুরের লাশ উত্তোলনের প্রয়োজন না হয়, তাহলে ২৪-এর অভ্যুত্থানে খুনি শেখ হাসিনার হুকুমে যারা গণহত্যা ঘটিয়েছে, যারা জীবন নিয়েছে, তাদের বিচারের জন্য কেন শহীদদের লাশ উত্তোলন করতে হবে? ২৪-এর অভ্যুত্থানের সঙ্গে যারা জড়িত ছিল, এই অভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছে, তাদের এই হত্যা মামলাগুলোর জন্য কারও লাশ উত্তোলন করা যাবে না।
অনুষ্ঠানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক মেহরাব সিফাত, মুবাশ্বিরুজ্জামান, মাহিন সরকার, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার আজিম আহমেদ ও রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আলমগীর রহমান বক্তব্য রাখেন।
এ সময় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, রাজশাহীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান, রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতারসহ শহীদদের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।