বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। গতকাল সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিডিআর হত্যাকাণ্ড বিষয়ে বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘অবসরপ্রাপ্ত বিচারক এবং সিভিল সার্ভিস ও সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্তদের নিয়েই এই কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির সদস্যসংখ্যা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। তবে এটি ৫ থেকে ৯ জন হতে পারে। কমিটিতে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যসংখ্যা কিছুটা বেশি থাকবে বলেও জানান উপদেষ্টা।’
‘এর আগে গত সোমবার বিডিআর হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিতে “কমিশন গঠনে গড়িমসি করে” সরকার দেশের জনগণের আকাক্সক্ষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বলে মন্তব্য করে আইন উপদেষ্টার কার্যালয় ঘেরাও করার ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সমন্বয়ক মাহিন সরকার। আজ বেলা ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে এই কর্মসূচি শুরু হবে বলেও এক ফেসবুক পোস্টে জানান তিনি। পরে তার ওই ফেসবুক পোস্ট শেয়ার করে তার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। এমন ঘোষণার এক দিনের মাথায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কমিটি গঠনের বিষয়ে এ সিদ্ধান্ত জানাল।’
বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পুনর্তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে অন্তর্র্বর্তী সরকার বদ্ধপরিকর। এই লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অন্তর্র্বর্তী সরকার গঠনের পর থেকেই কাজ করে যাচ্ছে। এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা হিসেবে আমি বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পুনর্তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে সোচ্চার ছিলাম, এখনো রয়েছি। এ বিষয়ে গত ২ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রথমবার এবং গত ৪ নভেম্বর বিজিবি সদর দপ্তর পরিদর্শনকালে দ্বিতীয়বার ঘোষণা দিয়েছিলাম; যা বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ায় প্রচার হয়েছে।’
বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা পুনর্তদন্তের দিকে যাচ্ছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ‘পুনর্তদন্তের আদেশ দিতে পারে আদালত। আমরা একটি ফ্রেশ ইনকোয়ারিতে যাচ্ছি।’
এদিকে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের দেশে থাকার কথা অন্তর্র্বর্তী সরকার জানত না বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। গতকাল ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বিভাগীয় আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত বিশেষ সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘দেশে লুকিয়ে আছে জানলে আমরা অবশ্যই তাকে (কাদের) ধরে ফেলতাম।’
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জানতে চেয়েছে ওবায়দুল কাদের তিন মাস দেশে লুকিয়ে ছিলেন, এরপর তিনি কীভাবে দেশ ছাড়লেন? এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ‘ওবায়দুল কাদেরের দেশে থাকার বিষয়টি সরকার জানত না। সরকার তার লোকেশন জানলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে গ্রেপ্তার করত।’ সে সময় তিনি বলেন, ‘অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে যদি কেউ ওবায়দুল কাদেরের অবস্থান জানাতে পারেন, তবে তাকে পুরস্কৃত করা হবে।’