ডিএনসিসির টেন্ডার নিয়ন্ত্রণে আতিকের বন্ধু দীলিপ ঘোষ!

ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলেও বদলায়নি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। ঢাকার সেবাদানকারী শীর্ষ এ প্রতিষ্ঠানটি এখনো চলছে সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলামের অনিয়ম-দুর্নীতির সহযোগীদের দিয়ে। এভাবে চলতে থাকলে যেকোনো সময় নাগরিক সেবায় আরও ধস নামতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডিএনসিসিতে সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলামের বন্ধু হিসেবে পরিচিত দীলিপ কুমার ঘোষ। আওয়ামী লীগ সরকারের আমালে ডিএনসিসির বেশিরভাগ কাজ ছিল তার ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান জানি এন্টারপ্রাইজের নিয়ন্ত্রণে। তার হাত ধরে ডিএনসিসির বিভিন্ন সড়কে নিম্নমানের কাজ হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কোনো রকম কাজ করে বিল তুলে সেটি অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ভাগবাটোয়ারার অভিযোগ রয়েছে দীলিপ ঘোষের বিরুদ্ধে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিএনসিসির প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাবেক মেয়রের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে দীলিপ তার প্রতিষ্ঠান জনি এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে নানা বিতর্কিত প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন। এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মহাখালী ডিএনসিসি মার্কেট নির্মাণ করে ডিএনসিসি। মার্কেট নির্মাণের ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও সেখানে যাননি কোনো ব্যবসায়ী। সবশেষ করোনার সময় এটিকে কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা শুরু করে ডিএনসিসি। অভিযোগ আছে, এমন আরও অনেক যেনতেন প্রকল্পের নামে বিল উত্তোলন করতেন মেয়রের ঘনিষ্ঠরা। বিশেষ করে উত্তরা, প্রগতি সরণি এবং তেজগাঁও এলাকায় এই ঠিকাদারের করা বিভিন্ন সড়কের উন্নয়ন কাজ নিয়ে এলাকাবাসীর অসন্তোষ রয়েছে।

ডিএনসিসি সূত্র বলছে, পটপরিবর্তনের পর নানা অনিয়মের অভিযোগে সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম গ্রেপ্তার হলেও তার সহযোগীরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। নানা অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে এখনো সরকারি অর্থের অপচয়ের পরিকল্পনা করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় দীলিপ ঘোষকে নিয়ে টেন্ডার বাগিয়ে নিতে পাঁয়তারা করছে আতিক চক্র। তাকে সহযোগিতা করছেন ডিএনসিসির প্রকৌশল বিভাগের আতিক সিন্ডিকেটের কর্মকর্তারা। পুরনো সিন্ডিকেটের নিয়মে টেন্ডার বাগিয়ে নিতে না পেরে ক্ষুব্ধ হচ্ছেন দীলিপ। এমনকি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করছেন। অনেক কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন। দপ্তরে দপ্তরে কুৎসা রটিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

এ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে চাইলে ডিএনসিসির প্রকৌশল বিভাগের কেউ বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক প্রকৌশলী জানিয়েছেন, দরপত্রের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতা জরুরি। অনেকের অভিজ্ঞতা থাকে না। যার ফলে পুরনো ঠিকাদাররা সুবিধা পান। ই-টেন্ডারের মাধ্যমে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ হওয়ার কারণে এখনো উনিশ-বিশ করার সুযোগ নেই। একজনের ভাষ্য, আগে যাদের মেয়রের সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল, তারা এখন অন্য লাইনে ম্যানেজ করে কাজ আদায়ের জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও দীলিপ ঘোষ রিসিভ করেননি।