জাবি শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে বিএনপি আওয়ামীপন্থিদের পদ ভাগাভাগি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শিক্ষক সমিতির নির্বাচন হবে আজ মঙ্গলবার। বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থি ও বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সমন্বয়ে গঠিত মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের শিক্ষক পরিষদ প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে লড়বেন। নিজেদের মধ্যে পদ ভাগাভাগি করে নির্বাচনে অংশ নেবেন তারা। ১৫ সদস্যের কমিটির নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অংশ নেবেন মোট ১৭ জন শিক্ষক। এর মধ্যে সভাপতি, সহসভাপতি ও যুগ্ম সম্পাদক পদে ১ জন করে প্রার্থী অংশ নেবেন। শুধু সাধারণ সম্পাদক পদে ৩ জন প্রার্থী লড়বেন। বাকি ১০টি নির্বাহী সদস্য পদে প্রতিটি পদের জন্য একজন করে মোট ১০ জন শিক্ষক অংশগ্রহণ করবেন।

নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে যাওয়া ১৭ জন শিক্ষকের ১১ জন শিক্ষক বিএনপিপন্থি এবং ৬ জন শিক্ষক আওয়ামীপন্থি হিসেবে পরিচিত।

এদের মধ্যে সভাপতি পদে অধ্যাপক সোহেল রানা, কোষাধ্যক্ষ পদে অধ্যাপক মাসুম শাহরিয়ার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ রায়হান শরীফ, নির্বাহী সদস্য পদে আবু সাইদ মো. মুনতাকিমুল বারী চৌধুরী, অধ্যাপক আমিনুর রহমান খান, অধ্যাপক নাহিদ আখতার, অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন, অধ্যাপক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। তারা সবাই বিএনপিপন্থি শিক্ষক হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে সহসভাপতি পদে অধ্যাপক মো. এমরান জাহান, নির্বাহী সদস্য পদে অধ্যাপক খো. লুৎফুল এলাহী, সহযোগী অধ্যাপক আমিনা ইসলাম, মোহাম্মদ মাহাবুবুর রহমান, অধ্যাপক মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন, মো. আব্দুস সবুর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নিচ্ছেন। তারা সবাই আওয়ামীপন্থি শিক্ষক হিসেবে পরিচিত।

আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের সঙ্গে বিএনপিপন্থি শিক্ষকরা সমন্বয় করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারী ও হামলাকারীদের মদদদাতা কোনো শিক্ষক ভোট দিতে পারবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জাবি শাখার সদস্য সচিব তৌহিদ সিয়াম দেশ রূপান্তরকে বলেন, শিক্ষক সমিতির নির্বাচন যদি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে হামলাকারী শিক্ষকদের নিয়ে হয় তাহলে ছাত্র-জনতা সেই নির্বাচনে বাধা দেবে।

তবে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের শিক্ষক পরিষদ কোনো দলীয় লেজুড়বৃত্তিক শিক্ষক সংগঠন নয় বলে জানিয়েছেন প্ল্যাটফর্মটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. মোতাহার হোসেন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা নেই। সেহেতু আওয়ামী লীগ বা বিএনপিপন্থি রাজনীতির বিষয়টি সামনে আসার সুযোগ নেই। আমরা সাধারণ শিক্ষক হিসেবে এর আগেও সিনেট নির্বাচনসহ বেশ কয়েকটি নির্বাচন করেছি।’

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের আগে শিক্ষক সমিতির নির্বাচন না করার আহ্বান জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জাবি শাখার নেতাকর্মীরা। অন্যথায় তারা কঠোর অবস্থানে যাবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এমন ঘোষণায় শিক্ষক সমিতির সর্বশেষ কমিটির সভাপতি এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের শিক্ষক পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, ‘জাবি শিক্ষক সমিতি জাকসু নির্বাচনের জন্য প্রশাসনের কাছে কয়েক দফা দাবি জানিয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি বিভিন্ন আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছিল। আমি ছাত্রদের দাবির সঙ্গে একমত।’