সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশটির দামেস্ক বিমানবন্দর থেকে প্রথম বিমান উড্ডয়ন করেছে। বিমানটি দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় আলেপ্পোর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছে।
বিমানটিতে সাংবাদিকসহ ৪৩ আরোহী ছিলেন। যখন বিদ্রোহীদের প্রবল আক্রমণের মুখে আসাদ সিরিয়া থেকে পালিয়ে যান। বিদ্রোহীরা আসাদ বাহিনীর কাছ থেকে একের পর এক শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ৮ ডিসেম্বর আসাদের সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দামেস্ক বিমানবন্দর ছেড়ে পালিয়ে যায়।
তবে দেশত্যাগের আগের দিনও আসাদ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করেছিলেন। বৈঠকে দেশটির প্রায় ৩০ সেনা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তবে এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আসাদ যে সিরিয়া ছেড়ে রাশিয়ায় পালিয়ে যাবেন, সেটা বৈঠকে উপস্থিত কেউ বুঝতে পারেননি।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তরে প্রাত্যহিক কাজ সেরে সেখানকার কর্মকর্তাদের আসাদ বলেছিলেন, তিনি বাসায় ফিরবেন। কিন্তু তা না করে বিমানবন্দরে চলে যান। আসাদ রবিবার ভোরে একটি উড়োজাহাজে দামেস্ক থেকে উড়াল দেন। বিদ্রোহীরা যখন রাজধানীতে ঢুকে পড়েন, তখন তিনি এমনভাবে দেশ ছাড়েন যে তাকে বহনকারী উড়োজাহাজকে রাডারে শনাক্ত করা যায়নি।
এর মধ্য দিয়ে সিরিয়ায় আসাদ পরিবারের টানা ৫৩ বছরের শাসনের অবসান হয়। বাশার আল-আসাদ ২৪ বছর আর এর আগে তার বাবা হাফিজ আল-আসাদ ২৯ বছর সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট ছিলেন।