সরকারকে আনু মুহাম্মদ

দেশের জন্য ক্ষতিকর ভারতের সব প্রকল্প বাতিল করুন

বাংলাদেশে ভারত যে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে, সাম্প্রদায়িকতার যে উসকানি দিচ্ছেÑ তার বিরুদ্ধে আমাদের সদা জাগ্রত থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেন, ‘সরকারের সঙ্গে যুক্ত যারা আছেন তাদের বলব, ভারতের বিরুদ্ধে হুংকার দেওয়াই যথেষ্ট নয়। বাংলাদেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য ভারতের সুনির্দিষ্ট যেসব প্রকল্প আছে, সেগুলো বাতিল করার ব্যবস্থা করতে হবে।’

গতকাল শুক্রবার বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে পদযাত্রা শুরুর আগে এসব কথা বলেন তিনি। ‘৭১ থেকে ২৪ বিজয়ের লড়াই : ৫৩ বছরের সকল লড়াইয়ের স্মৃতি যাপনে পদযাত্রা’ করে ‘গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি’।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘অনেকে ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলছেন, কিন্তু রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র যেটা বাংলাদেশের সর্বনাশ করছে সেটা বাতিল করার কথা বলছেন না। আমরা সেটা বাতিল করার দাবি জানাই। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রাশিয়ার অর্থায়নে করা হলেও এটি ভারতের ব্যবস্থাপনায় তৈরি হচ্ছে। ভারতের আধিপত্য এই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের মধ্যেও আছে। ভয়ংকর এই প্রকল্প বাতিলের দাবি জানাই। সীমান্ত হত্যা বন্ধের দাবি জানাই।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের কাছে দাবি জানাই, দেশের কোনো সংখ্যালঘু বা কোনো মানুষ যেন নিপীড়নের শিকার না হয় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। জুলাই হত্যাকা-ের বিচারের পাশাপাশি যারা মব ভায়োলেন্স, জোর জবরদস্তি করছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ আরও বলেন, ‘২০০৬ সালে পোশাকশ্রমিকরা তাদের মজুরির দাবিতে আন্দোলন করেছেন। ২০০৬ সালে কৃষকদের বিশাল আন্দোলনে ২০ জন শহীদ হন। ফুলবাড়ীর গণঅভ্যুত্থানে তিনজন শহীদ হন। ২০০৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আক্রমণের বিরুদ্ধে আন্দোলন তৈরি হয়। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ক্ষমতা চিরস্থায়ীকরণের বাসনায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে। এরপর ২০১৪ সাল থেকে একের পর এক আর কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে জাতীয় সম্পদ তেল, গ্যাস, কয়লাসহ যেসব চুক্তি করা হতে থাকে এর বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়। সুন্দরবন রক্ষার জন্য আন্দোলন, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরুদ্ধে আন্দোলন বাংলাদেশের মানুষকে ব্যাপকভাবে ঐক্যবদ্ধ করে।’