দ্বিতীয়বারের মতো চট্টগ্রামে পাকিস্তানি জাহাজ, নিয়ে এলো চিনি-গ্লাস তৈরির কাঁচামাল

দ্বিতীয়বারের মতো পাকিস্তান থেকে সরাসরি জাহাজ ভিড়লো চট্টগ্রাম বন্দরে। পাকিস্তানের করাচি বন্দর থেকে চিনি-আলু-আখের গুড়-কাপড়ে রোল এবং শিল্পের কাঁচামাল বিভিন্ন ক্যামিমেকলসহ পণ্যবাহী ৮২৫ একক কনটেইনার নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের ভিড়েছে বহুল আলোচিত জাহাজ এমভি ইউয়ান জিয়াং ফা ঝং। রবিবার (২২ ডিসেম্বর) বিকাল ৩টায় জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে বার্থিং নেয়। মাত্র ১১ দিনে পাকিস্তান থেকে পণ্য নিয়ে আসা জাহাজটি শনিবার বিকাল থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের বর্হিনোঙ্গরে অবস্থান নিয়েছিল। 

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এর ২ নাম্বার জেটিতে নোঙ্গর করা পানামার পতাকাবাহী এম ভি ইউয়ান জিয়াং ফা ঝং জাহাজটিতে পণ্যবাহী ৮২৫ একক কনটেইনার রয়েছে। এর মধ্যে পাকিস্তানের করাচি বন্দর থেকে ৬৭৮টি কনটেইনার লোড হলেও বাকিগুলো লোড হয়েছিল আরব আমিরাতের জেবল আলী বন্দর থেকে।

জাহাজটির শিপিং এজেন্ট কর্ণফুলী লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠানে রিজেন্সি লাইনস লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক আনিস উদ দৌলা দেশ রূপান্তরকে বলেন, জাহাজটিতে এবার কম সময়ে দ্বিগুন কনটেইনার আসায় ব্যবসায়ীদের খরচ সাশ্রয় হবে। আমদানিকৃত পণ্যের মধ্যে ৮৬ শতাংশ পণ্য পাকিস্তান এবং ১৪ শতাংশ পণ্য আরব আমিরাত থেকে এসেছে।

জাহাজটিতে কী পণ্য নিয়ে এসেছে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টমস এর মুখপাত্র মুখপাত্র ও উপ-কমিশনার সাইদুল ইসলাম বলেন, জাহাজটিতে সবচেয়ে বেশি এসেছে পরিশোধিত চিনি। ২৮৫ কনটেইনার চিনি এসেছে যেখানে রয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ২০০ ব্যাগে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার টন, গ্লাস তৈরির কাঁচামাল ডলোমাইট আমদানি হয়েছে ১৭১ কনটেইনার। সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল সোডা অ্যাশ ১৩৮ কনটেইনার। এছাড়া ৪৬টি কনটেইনার কাপড়ের রোল, ১৮ কনটেইনার আলু এবং ২০ কনটেইনার আখের গুড় এবং কয়েক কনটেইনার রেজিন এবং থ্রিপিসসহ নানা পণ্য আনা হয়েছে।

আরব আমিরাত থেকে আসা পণ্যের মধ্যে রয়েছে খেজুর, লুব অয়েল এবং খাদ্যপণ্য। এর আগে গত ১১ নভেম্বর ৩২৮ কনটেইনার পণ্য নিয়ে জাহাজটি পাকিস্তান হয়ে সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দর এসেছিল। এর মধ্যে ২৯৭ কনটেইনার পাকিস্তানী পণ্য হলেও বাকিগুলো ছিল আরব আমিরাতের পণ্য। সবশেষ ১১ ডিসেম্বর পাকিস্তান থেকে কনটেইনার লোড করে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেছিল।

আগে পাকিস্তান থেকে যেসব পণ্য বাংলাদেশে আমদানি করা হতো, সেগুলো মূলত সিঙ্গাপুর কিংবা মালেয়শিয়ার তাঞ্জুমপালাপাস বন্দরকে ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর হিসাবে ব্যবহার করে চট্টগ্রাম বন্দরে আনা হতো। এতে সময় লাগতো ৪৫ দিনের বেশি। বর্তমানে সময় নেমে আসছে মাত্র ১০ থেকে ১১ দিনে। এতে যেমন আমদানি খরচ কমবে, তেমনি সহজলভ্য হবে শিল্পের কাঁচামাল।

উল্লেখ্য, দুবাইভিত্তিক কনটেইনার জাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থা ‘ফিডার লাইনস ডিএমসিসি’ কয়েকটি দেশের বন্দরকে যুক্ত করে এই রুট চালু করেছে। এই রুটে জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তানের করাচি বন্দর, ভারতের মুন্দ্রা, ইন্দোনেশিয়ার বেলাওয়ান, মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাং ও বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দর রুটে চলাচল করার কথা। এ পর্যন্ত এই রুটে দ্বিতীয় ভয়েস করলো জাহাজটি।