ডাক্তারকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে হাসপাতাল ফটকে ব্যানার

ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নব-যোগদানকৃত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. শোয়েব ইমতিয়াজ নিলয়কে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে হাসপাতাল ফটকে ব্যানার ফেস্টুন ঝুলিয়ে দিয়েছে চিকিৎসক, নাস ও কর্মকর্তা কর্মচারীরা। গত শনিবার (২১ ডিসেম্বর) তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল খায়ের মিয়াজির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বরত অপর আরএমও ডা. আসিফ ইকবাল। 
 
দুর্নীতি ও অপকর্ম এবং ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর আখ্যা দিয়ে আবাসিক চিকিৎসক ডা. শোয়েব ইমতিয়াজ নিলয়কে ফেনীর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে।
 
সভায় বলা হয়, ডা. শোয়েব ইমতিয়াজ নিলয় ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর এবং জুলাই আন্দোলনের সরাসরি বিরোধিতাকারী ছিলেন। তার বিরুদ্ধে বিগত দিনের কর্মস্থলে ঘুষ, দুর্নীতি ও সহকর্মীদের সাথে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। তারপরও গত ১৭ ডিসেম্বর ১০-১৫জন বহিরাগত নিয়ে তিনি হাসপাতালে আবাসিক চিকিৎসক হিসেবে যোগ দিয়েছেন। এতে করে হাসপাতালের সাধারণ কর্মকর্তা- কর্মচারীদের মাঝে আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
ডা. শোয়েব ইমতিয়াজ নিলয় দুর্নীতি এবং উপজেলার স্বাস্থ্যবিভাগে ঘুষ ও পোস্টিং বাণিজ্য এবং ডিউটি বাণিজ্যের সিন্ডিকেট তৈরী করেন। তিনি বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে হাসপাতালের পরিবর্তে রোগীদের তার ব্যক্তিগত চেম্বারে যেতে উদ্বুদ্ধ করতেন।
 
হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও শৃংখলা বজায় রাখার স্বার্থে অনতিবিলম্বে এ বিতর্কিত ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে অপসারণের দাবি জানানো হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ১৭ই ডিসেম্বর ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) পদে যোগদান করেন ইমতিয়াজ। যোগদানের দিন তিনি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া অবলম্বন না করে ১০/১৫ জন বহিরাগত নিয়ে হাসপাতালে প্রবেশ করে তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে ঢুকে বল প্রয়োগ করে আরএমও পদে যোগদান করেন। তার এমন যোগদানে হাসপাতালে কর্তব্যরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও ভয়ের সৃষ্টি হয়। 
ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে কর্তব্যরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আসিফ ইকবাল জানান, তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার বিষয়টি সঠিক। তবে বিস্তারিত তত্ত্বাবধায়ক স্যার থেকে জেনে নিতে পারেন। এ ছাড়া যোগদান করেই তিনি ওইদিনই ছুটিতে চলে যান।
জানা যায়, ডা. মো. শোয়েব ইমতিয়াজ (নিলয়) ৫ই আগস্টের পূর্বে ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত ছিলেন। তিনি ফেনীতে ১০ বছর ধরে কর্মরত ছিলেন। প্রথমে মেডিকেল অফিসার এবং আরএমও হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এরপর ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচ অ্যান্ড এফপিও) হিসেবে দুই বছর কর্মরত ছিলেন। তিনি স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের আজীবন সদস্য। তার জেঠাতো ভাই মনসুর আহমেদ বিপ্লব জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) অতিরিক্ত পরিচালক হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মরত ছিলেন।
বিষয়টি জানতে চাইলে ইমতিয়াজের মুঠোফোনে ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।