‘আমার ছেলে বেঁচে আছে কি না জানি না। আমি জানি না তার বন্ধু আছে না শত্রু আছে। আপনারা যেভাবে পারেন আমার ছেলেকে উদ্ধার করে দেন’ গতকাল সোমবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মানববন্ধন থেকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এ আকুতি জানান জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় থাকা ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খালেদ হাসানের বাবা লুৎফর রহমান। প্রায় ৭২ ঘণ্টা ধরে ‘নিখোঁজ’ খালেদ হাসানের বাড়ি কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায়। তিনি বিশ^বিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। খালেদের বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ মানববন্ধনের আয়োজন করেন।
খালেদের বাবা লুৎফর রহমান বলেন, ‘ছেলের কী হয়েছে আমি জানি না। আমার দিন নাই, রাত নাই। আজকে এই অফিস, কালকে ওই অফিসে দৌড়াদৌড়ি করছি কিন্তু কাজ হচ্ছে না। আমার ছেলেকে আপনারা উদ্ধার করে দেন।’
মানববন্ধন থেকে দ্রুত খালেদ হাসানকে ফিরিয়ে দেওয়া না হলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। বিভাগের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন খান বলেন, ‘আমরা দেখেছি যারা জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ছিল তাদের অনেকের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর ওপর ইতিমধ্যে হামলা করা হয়েছে। আমাদের খালেদ কয়েক দিন থেকে নিখোঁজ। আমরা অতি দ্রুত তার সন্ধান চাচ্ছি।’
মুরাদ নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে খুনি শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের বিতাড়িত করেছি। এরপর ইউনূস সরকারকে যারা ক্ষমতায় বসিয়েছেন তাদের অন্যতম একজন খালেদ তিন দিন ধরে নিখোঁজ অথচ প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।’ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সহ-সমন্বয়ক নাদিম মাহমুদ শুভ বলেন, ‘আমার ভাই ৭২ ঘণ্টা ধরে নিখোঁজ অথচ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো খোঁজ নিতে পারছে না। সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা কী করছে? আমরা এ ধরনের প্রশাসন চাই না।’
আরেক শিক্ষার্থী তাহমিনা বিনতে আমিন বলেন, ‘আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন খালেদের বিষয়ে এখনো কোনো জোরালো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। অতি দ্রুত তাকে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দিতে হবে।’