১৭ বছর পর কারামুক্ত বিএনপি নেতা পিন্টু

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম (পিন্টু) প্রায় ১৭ বছর পর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি বের হন।

কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর পিন্টুকে স্বাগত জানান দলের নেতাকর্মীরা। তাদের নিয়ে তিনি সেখান থেকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে গিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করেন। এরপর যান নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে।

এদিকে সাবেক উপমন্ত্রী পিন্টুর কারামুক্তির খবরে তার নির্বাচনী এলাকা টাঙ্গাইলে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেন জেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় ফাঁসির দণ্ড পেয়েছিলেন বিএনপি নেতা পিন্টু। সম্প্রতি এ মামলায় সম্পূরক অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে বিচারিক আদালতের বিচার অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে রায় দেয় হাইকোর্ট। বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ডেথ রেফারেন্স নাকচ করে এবং আসামিদের আপিল মঞ্জুর করে গত ১ ডিসেম্বর এ রায় দেওয়া হয়।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের পার্ট-২-এ বন্দি ছিলেন বিএনপি নেতা আবদুস সালাম। কারাগারটির জেলসুপার আল মামুন জানান, গতকাল সকালে আবদুস সালামের জামিনের কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছালে তা যাচাই-বাছাই শেষে অন্য কোনো মামলায় আটকাদেশ না থাকায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। কারাগারের প্রধান ফটক থেকে স্বজনরা তাকে নিয়ে যান। ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় গ্রেপ্তার হন আবদুস সালাম। তখন থেকেই তিনি কারাগারে ছিলেন।

কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান সরাসরি রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করতে যান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু ও কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীমসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

পরে সেখানে নজরুল ইসলাম খান উপস্থিত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ভারত নিজেদের বিশে^র বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ দাবি করে। আমরা আশা করব একজন অপরাধীকে সঙ্গ দেওয়ার জন্য, তার পক্ষ নেওয়ার জন্য, ভারত এমন কিছু কাজ করবে না যাতে গণতান্ত্রিক চরিত্র, গণতান্ত্রিক যে পরিচিতি; তা নষ্ট হয়।’

পিন্টুর মুক্তিতে সন্তোষ প্রকাশ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম পিন্টুকে আমাদের মধ্যে ফিরে পেয়ে আমরা শুধু আনন্দিত নই, অনেক বেশি শক্তিশালী হলাম। মওলানা ভাসানীর সঙ্গে কাজ করেছেন এমন একজন নেতার উপস্থিতি বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কী দুর্ভাগ্য একজন আইনজ্ঞ, একজন জনপ্রতিনিধি, একজন মন্ত্রী তার বিরুদ্ধে জঙ্গি মামলা দেওয়া হয়েছিল। দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলাও দেওয়া হয়েছিল। একটি ফ্যাসিস্ট সরকার এমনই করে, কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী তারা সবসময় পালিয়ে যায় আর সালাম পিন্টুর মতো মানুষরা মুক্ত হয়।’

এ সময় আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘মিথ্যাবাদী লুটেরা যারা বাংলাদেশকে লুটপাটের খনি হিসেবে ব্যবহার করেছিল তারা আজকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। যারা সততার রাজনীতি করেছেন, যারা জনগণের পক্ষে থেকেছেন, মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন করেছেন, সেসব রাজনীতিবিদকে ধ্বংস করার জন্য সব আয়োজন করেছেন শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা কখনোই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে লোক ছিলেন না; তিনি কখনোই স্বাধীনতার চেতনার পক্ষে ছিলেন না। যারা সবসময় দেশের স্বাধীনতার পক্ষে থেকেছেন সবসময় তাদের ক্ষতি করার চেষ্টা করেছে।’

টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম ১৯৯১, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০১ সালে তিনি শিক্ষা উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।