প্রথমবারের মতো সূর্যের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার মহাকাশযান ‘পার্কার সোলার প্রোব’। কয়েক দিন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পর গতকাল শুক্রবার সোলার প্রোব সূর্যপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৩৮ লাখ (৩.৮ মিলিয়ন) মাইলের মধ্যে পৌঁছে সংকেত পাঠিয়েছে। বাহনটি ১ হাজার ৪০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ও বিকিরণ সহ্য করেও টিকে আছে।
বিবিসি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিজ্ঞানীরা গ্রিনিচ মান সময় গতকাল ভোর ৫টায় পার্কার সোলার প্রোব থেকে সংকেত পেয়েছেন। এর মাধ্যমে সূর্য নিয়ে মানুষের গবেষণা আর বোঝাপড়ার নতুন দিগন্ত খুলল।
নাসা বলছে, পার্কার সোলার প্রোব নিরাপদ এবং স্বাভাবিকভাবেই সূর্যপৃষ্ঠ থেকে ৩৮ লাখ মাইলের মধ্যে পৌঁছাতে পেরেছে। অস্বাভাবিক তাপমাত্রা আর চরম বিকিরণ সহ্য করে ক্রিসমাসের প্রাক্কালে যানটি সূর্যের বায়ুমণ্ডলের বাইরের অংশে প্রবেশ করে।
সূর্যের কাছাকাছি চরম প্রতিকূল পরিবেশে পার্কার সোলার প্রোব টিকে থাকবে কি না, সেটি নিয়ে বিজ্ঞানীদের সংশয় ছিল। যদি সেটি টিকে থাকে, তবে গ্রিনিচ মান সময় ২৮ ডিসেম্বর ৫টায় সংকেত পাঠাবে বলে এর আগে জানিয়েছিল নাসা। নাসার বিজ্ঞানীরা অধীর ছিলেন ওই সংকেতের জন্য আর এক দিন আগে সেটি তারা পেলেন।
পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব ৯ কোটি ৩০ লাখ মাইল বা ১৪ কোটি ৯০ লাখ কিলোমিটার। নাসার মহাকাশযানটি পৃথিবী থেকে সূর্যের দিকে ছুটে গেছে ঘণ্টায় ৪ লাখ ৩০ হাজার মাইল (৬৯২,০০০ কিলোমিটার) গতিতে। এ যাত্রায় সেটিকে ১৮ হাজার ফারেনহাইট (৯৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) পর্যন্ত তাপমাত্রা সহ্য করতে হয়েছে।
সূর্যপৃষ্ঠের তাপমাত্রা প্রায় ৬০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তারও বেশি। কিন্তু সূর্যের বাইরের বায়ুমণ্ডলে থাকা করোনার এমনও কিছু অংশ রয়েছে, যেখানের তাপমাত্রা মিলিয়ন ডিগ্রি সেলসিয়াস।
নাসা বলছে, সূর্য নিয়ে এ পরীক্ষায় বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারবেন, সূর্যের বাইরের বায়ুমণ্ডলে তাপমাত্রা কেন ও কীভাবে মিলিয়ন ডিগ্রি পর্যন্ত উঠে যায়। সৌর বাতাসের উৎস সম্পর্কে ধারণার পাশাপাশি জ¦লন্ত কণাগুলো কীভাবে আলোকবর্ষের গতিতে ছুটে যায়, সে সম্পর্কেও ধারণা পাবেন বিজ্ঞানীরা।