থার্ড অ্যাটাকের মতো বিদায়ী চব্বিশের শেষলগ্নের শিরোনামে আবার ‘সাংবাদিকরা’। তুঘলকিকাণ্ডের মতো সাংবাদিকদের সচিবালয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রে সব অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিলের সিদ্ধান্ত। গণতান্ত্রিক, অগণতান্ত্রিক, নির্বাচিত, অনির্বাচিত, অন্তর্বর্তী আর মধ্যবর্তী তথ্যকে সবারই ভয় তা বারবার প্রমাণিত। সাপ্তাহিক বন্ধের দিন শুক্রবার রাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বরত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরীর সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। কেন জরুরি হয়ে পড়ল প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ে সাংবাদিকদের নিষিদ্ধ করা? এ জিজ্ঞাসার জবাব আছে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটিতে। বলা হয়েছে, সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সচিবালয়ের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ জারি করা হয়েছে।
এমন আদেশ-নিষেধ বা কথা শোনার জন্য একটুও প্রস্তুত ছিল না সাংবাদিকরা। তাদের জন্য যদিও নমুনা হিসেবে এটি নতুন নয়। এর আগে, বাংলাদেশ ব্যাংকে কিছু গোলমাল পাকার পর এক আচানক হুকুমনামায় সেখানে সাংবাদিক নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়। পারলে তখন অন্যান্য ব্যাংকের চৌ-সীমানায়ও সাংবাদিক নামের জীবদের অস্পৃশ্য করে ফেলা হয়। মোট কথা, তথ্যের প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়ার অপচেষ্টা। তথ্যের স্রোত বন্ধ করলে যে অপতথ্য বা ভুল তথ্যের বিস্তার ঘটে চেয়ারে বসা ব্যক্তিরা সময়ে সময়ে তা ভুলে যান। একজনমে নয়, কেবল বিদায়ী চব্বিশেই পেশাগত নানা
জ্বালা-যন্ত্রণার নানা ফেরের মাঝে বিভিন্ন জায়গায় চাকরিচ্যুতির নমুনাও দেখতে হয়েছে সাংবাদিকদের। কোনো কোনো দলের নেতাদের বিভিন্ন মিডিয়া হাউজে হুকুম জারি চলেছে কয়েকটা দিন। আবার সমন্বয়করাও কম যাননি। চাকরি থেকে ছাঁটাই করার তালিকা ধরিয়ে দেওয়ার খবরও আছে। এই খবরটি দেশের মিডিয়ায় কম গুরুত্ব পেলেও বিবিসি-এএফপির মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিস্তারিত এসেছে। এগুলো বড় বাজে নজির হয়ে থাকল। আর সাংবাদিকদের বেদনার ডায়েরি দীর্ঘ হলো। চাকরি ছাঁটাইয়ের জন্য কোনো তালিকা দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ। সাংবাদিকদেরই একটি অংশ এটি করার জন্য ‘সাজেস্ট’ করেছে বলে দাবি করেন আব্দুল্লাহ। বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, ‘আপনাদের জার্নালিস্টদেরই একটা বৃহৎ অংশ, যারা ফ্যাক্টবেসড জার্নালিজমের মধ্যে ছিল, প্রোপাগান্ডা বেসড জার্নালিজমের মধ্যে ছিল না ওই জার্নালিস্টরাই পরামর্শ দিয়েছে সিটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। কেবল আলোচনার জন্যই সেখানে গিয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।
সংস্কার বা পরিবর্তনের নামে কেউ এমনটা ধারণাও করেনি। মাত্র একটি বছরের মধ্যে একের ভেতর এত কিছু দেখার শঙ্কা সাংবাদিকদের কল্পনায়ও আসেনি। কীসের মধ্যে কী হচ্ছে এসব? কথা চাপা থাকছে না। কোনো কোনো বা কারও না কারও মুখ দিয়ে প্রকাশ ঘটে যাচ্ছে। এখনও এক ধরনের ‘সেলফ সেন্সরশিপ’ কাজ করছে বলে সেদিন সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ-সিজিএসের আলোচনা অনুষ্ঠানে উচ্চারণ করে ফেলেছেন কয়েক বক্তা। ভয়ে ভয়ে বলবেন, নাকি নির্ভয়ে বলবেন এ মন্তব্য দিয়ে শুরু করে মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেছেন, তিনি ‘ছায়া’কে ভয় পাচ্ছেন। আর সংস্কার শুনলেও ভয় লাগে। ১৯৭৫ সালে চারটি সংবাদপত্র রেখে বাকি সব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আবারও সে ধরনের কিছু ঘটে কি না, তা নিয়ে তিনি ভীত। কিছুসংখ্যক সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের ভূমিকারও সমালোচনা করেন মতিউর রহমান চৌধুরী। বলেন, ভারতে যদি ‘গদি সাংবাদিক’ হয়, বাংলাদেশে হবে ‘তেলবাজ সাংবাদিক’। তিনি বলেন, অনেক সাংবাদিক বেতন পান না এটা যেমন ঠিক, আবার অনেকের বেতন প্রয়োজন হয় না, এটাও স্বীকার করতে হবে। মতিউর রহমান চৌধুরী কথাগুলো বলেছেন, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদের কথার সূত্র ধরে। সম্পাদক ও সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে কামাল আহমেদ বলছিলেন, এরশাদ আমলে সাংবাদিকরা মিলে ১৩ দিন সব পত্রিকা বন্ধ রেখেছিলেন। তিনি প্রশ্ন রাখেন, সে ঐক্য কোথায় গেল? এ প্রশ্নের জবাব তার কাছেও আছে। আবার লুকানোর কোনো সুযোগ নেই যে, বিগত সময়ে অনেক ক্ষেত্রে সাংবাদিকতা ব্যর্থ হয়েছে। সরকারপ্রধান ও তার সহচরদের মতো সাংবাদিকদের দেশ ছেড়ে পালানোর রেকর্ডও তৈরি হয়েছে এবার, মানে এ বছরে। কারাগারে এবং পালিয়েও আছেন কয়েকজন। তাদের বিপরীতে নানান কঠোরতার মাঝেও সাহসী সাংবাদিকতাও দেশে কম হয়নি। মাথা বরাবর না হলেও কানের পাশ দিয়ে কম গোলা ছোড়েনি গণমাধ্যমগুলো। বালিশকাণ্ডসহ রূপপুর প্রকল্পের দুর্নীতি, সাবেক আইজিপি বেনজীর বা সাবেক সেনাপ্রধান আজিজদের কাণ্ডকীর্তি ধারণাতীতভাবে সাংবাদিকরাই তুলে এনেছেন। জীবনও দিয়েছেন বেশ কয়েক সাংবাদিক। যে সময়ে তাদের স্মরণ করার কথা, সে সময়ে এসে ঘায়ের মতো দুঃখজনক নানান বাহুল্য বিষয়াদি ভর করেছে সাংবাদিকতায়। দাসত্বের শৃঙ্খল ভাঙার বিপ্লবে আবু সাঈদ, মুগ্ধসহ হাজারো ছাত্র-জনতার রক্তভাসা পিচঢালা রাজপথে ১৬ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত অন্তত ছয় সাংবাদিকেরও প্রাণ গেছে। তাদের চারজন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন পুলিশের গুলিতে, অপর দুজন হামলা ও সহিংসতায়। আহত হয়েছেন সাড়ে ৩শয়ের মতো সাংবাদিক। তাদের অনেকে পঙ্গুত্বের মুখে পড়ে কাতরাচ্ছেন বিছানায়। দেশের ও বহির্বিশ্বের পাঠক-দর্শকের কাছে শিক্ষার্থী ও স্বাধীনতাকামী মানুষের আত্মত্যাগ, সাহসিকতা ও বীরত্বের গল্পগুলো তুলে ধরেছেন তারা। সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে যে নিষ্ঠুর সহিংসতা হয়েছে, তা প্রকাশ ও প্রচার করতে নিজেদের সক্ষমতার পুরোটাই দিয়েছেন অকাতরে।
পরিবারগুলো তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন। অনেক শহীদ সাংবাদিক পরিবারে এখনো শোক-বিলাপ। বুলেটে ১৮ জুলাই প্রথম শহীদ হন নিউজপোর্টাল ঢাকা টাইমসের সাংবাদিক হাসান মেহেদী। ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে খবর সংগ্রহের সময় গুলিবিদ্ধ হন তিনি। একই দিন পুলিশের গুলিতে সিলেটে নিহত হন দৈনিক নয়াদিগন্তের প্রতিনিধি আবু তাহের মুহাম্মদ তুরাব। উত্তরায় দৈনিক ভোরের আওয়াজের রিপোর্টার শাকিল হোসাইনও শহীদ হন সেদিন। পরদিন ১৯ জুলাই তাহির জামান প্রিয় নামের আরেক ভিডিও সাংবাদিক গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে। আর গণ-অভ্যুত্থানের আগের দিন ৪ আগস্ট সিরাজগঞ্জে দৈনিক খবরপত্র-এর সাংবাদিক প্রদীপ কুমার ভৌমিক প্রাণ হারান। হবিগঞ্জে স্থানীয় দৈনিক লোকালয় পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার সোহেল আখঞ্জিও জীবন দিয়েছেন। সাংবাদিক বা হতাহতের প্রতিটি ঘটনাতেই বেদনা কাব্যগাথা। মৃত্যুর মাত্র মাসখানেক আগে লন্ডনি কন্যা বিয়ে করেছিলেন সিলেটের সাংবাদিক এটিএম তুরাব। দুই-আড়াই মাসের মধ্যে তার লন্ডন পাড়ি দেওয়ার কথা ছিল। হানিমুনের প্রতীক্ষায় ছিলেন নবদম্পতি। কিন্তু তার আগেই গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে হয় তুরাবকে। ২৩ বছরের টগবগে তরুণ শাকিল বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে। তিন বোন, এক ভাইয়ের মধ্যে ছিলেন সবার ছোট। মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ তৃতীয় বর্ষের মেধাবী ছাত্র। টিউশনি করে নিজের খরচ নিজেই চালাতেন। পড়াশোনার পাশাপাশি সাংবাদিকতা করার নেশা পেয়ে বসে। সেই মোহে ভোরের আওয়াজের গাজীপুরের গাছা থানা প্রতিনিধি হন। ফ্রি ব্লাড ক্যাম্পিংসহ বেশ কিছু সামাজিক কাজে যুক্তও ছিলেন তিনি। আট বছর আগে স্ট্রোকের পর প্যারালাইসড হয়ে বিছানায় শুয়ে থাকা অসুস্থ মাকে শাকিল নিয়মিত নিজ হাতে খাইয়ে দিতেন। বড় তিন বোনের বিয়ে হওয়ার পর শাকিল সবসময় বাবা-মায়ের বিপদ-আপদে পাশে ছিলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদ শাকিলের অসুস্থ মা একমাত্র ছেলেকে হারানোর শোকে এখন ঠিকমতো খেতেও পারছেন না। সারাক্ষণ শাকিলের জামাকাপড় বুকে জড়িয়ে শুধু আহাজারি করছেন। উত্তাল আন্দোলনে ঢাকার অন্যান্য জায়গার মতো কোটা সংস্কারের আন্দোলন ঘিরে ধানমণ্ডির সায়েন্স ল্যাব মোড়ে সংঘর্ষের সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়। বিকাল ৫টায় সেখানেই গুলিবিদ্ধ হন তিনি। পরদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে সহকর্মী ও বন্ধুরা তার লাশ শনাক্ত করেন। প্রিয় ঢাকায় থাকলেও তার পরিবারের বাস রংপুর শহরে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজন করে গণ-অভ্যুত্থানের গানের অনুষ্ঠান ‘আওয়াজ উড়া’। সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির নন্দনমঞ্চে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শহীদ সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়র মা শামসী আরা জামান। সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়র মা বলেন, ‘ও জীবনটা গুছিয়ে এনেছিল। মেয়েকে স্কুলে দিয়েছিল। ঢাকায় নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। তাহির জামান প্রিয়র কথা বলতে গিয়ে প্রায় বাকরুদ্ধ মা বলেন, তার ছেলে প্রচুর বই পড়তেন। দেশ-জগতের খবর রাখতেন। প্রিয়র চার বছরের মেয়ের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন,‘আমার ছোট্ট নাতনিটাকে স্কুলে নিয়ে যাই, সামনে পুলিশের গাড়ি দেখলে ও রিকশায় দাঁড়িয়ে বলে, ‘তোমরা আমার বাবাকে মেরেছ! তোমরা ভালো না, পচা!’ ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের আগের দিন দুপুরের পর সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে উপজেলা প্রেসক্লাবে হামলা হয়। সেখানে অবস্থানরত দৈনিক খবরপত্রের সাংবাদিক প্রদীপ কুমারকে পিটিয়ে আহত করে হামলাকারীরা। হাসপাতালে নেওয়ার পর প্রদীপ কুমারের মৃত্যু হয়। গণ-অভ্যুত্থানের দিন ৫ আগস্ট হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে নিহত হন সাংবাদিক সোহেল আখঞ্জি। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ভয়াবহ সংঘর্ষের সময় ভিডিও ধারণকালে হামলার শিকার হন স্থানীয় দৈনিক লোকালয় পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার সোহেল আখঞ্জি। সোহেল জেলার বানিয়াচং উপজেলার কমলারানীর দীঘির পূর্বপাড়ে মোশাহিদ আখঞ্জির ছেলে। আন্দোলনকারীদের মৃত্যুর খবর পেয়ে সোহেল বাড়ি থেকে বের হয়ে থানায় গিয়ে নিজেই লাশ হয়ে ফেরেন। অভিযোগ রয়েছে, হবিগঞ্জের সাবেক ডিসির সামনে সাংবাদিক আখঞ্জিসহ দুজনের প্রাণহানি ঘটে। তিনি নির্বিকার ছিলেন। এতিম তিনটি শিশুসন্তান রেখে শহীদ হওয়া সোহেলের স্ত্রী মৌসুমী আক্তার মিডিয়ার সামনে স্বামী হারানোর বেদনা জানাতে গিয়ে বলেছেন, তার স্বামী নিহত সোহেলের আপন বলতে এই পৃথিবীতে কেউই নেই। তার বাবা, মা ও আপন ভাই-বোন বলতে কেউই নেই। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীকে হারিয়ে আখঞ্জির পরিবারের চুলায় ঠিকমতো আগুনও জ¦লছে না এখন। বেদনার এমন বেলাভূমিতে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের এখন একের ভেতর নানান কিছু দেখা আরেক বেদনার। গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান জানিয়েছেন, মানুষ কোন ধরনের গণমাধ্যমে কতটা আস্থা রাখে, তারা কেমন গণমাধ্যম চায়, এসব জানতে বিবিএসের মাধ্যমে নতুন বছরের প্রথম সাত দিন ১-৭ জানুয়ারি ন্যাশনাল মিডিয়া সার্ভে করা হবে। ‘ছায়া’কে ভয় পাওয়ার তাড়নার মাঝে পেশাদার সাংবাদিকরা সেই চাহিদা-আকাক্সক্ষার জোগান কতটা দিতে পারবেন সেই ভাবনারও অবকাশ রয়েছে। তাও সার্ভের আওতাভুক্তির দাবি রাখে।
লেখক: সাংবাদিক-কলামিস্ট; ডেপুটি হেড অব নিউজ, বাংলাভিশন
mostofa71@gmail.com