প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বক্তব্যের আলোকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। গতকাল রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদারের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন সিইসি। এছাড়াও সংস্কার কমিশনের সুপারিশ না পাওয়ার আগে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণে সিদ্ধান্তে আসতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।
আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা তো ঘোষণা দিয়েছেনই যে মিনিমাম সংস্কার করা হলে নতুন বছরের শেষের দিকে আর সংস্কার যদি সত্যিকার অর্থে করতে হয়, তাহলে পরের বছরের জুন মাস এসে যাবে। আমরা উনার বক্তব্যের আলোকে প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি।’
সংস্কার কমিশনের প্রধানের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে আলোচনা করতে এসেছেন যে ওনারা তো সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন খুবই শিগগিরই দিয়ে দেবেন। তো আমাদের কোনো সুপারিশ বা বক্তব্য আছে কি না তা জানতে চেয়েছেন। আমরা বিভিন্ন বিষয়ে যেটা অনুভব করছি সেগুলো জানিয়েছি।’
কোন কোন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানতে চাইলে সিইসি বলেন, ‘সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ-সংক্রান্ত কিছু বিষয় আছে, ভোটার তালিকা-সংক্রান্ত কিছু বিষয় আছে। এ ছাড়া যেগুলো নির্বাচনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলোর বিষয়ে আমাদের কিছু সুপারিশ থাকবে। ওনারা সুপারিশ করুক আর না করুক, আমাদের তা অ্যাড্রেস করতে হবে। তা না হলে আমরা সীমানা পুনর্নির্ধারণ করতে পারছি না। ভোটার তালিকায় যেহেতু যুবকদের আনতে চাই, সেহেতু এখানেও কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। আমরা তাদের বিষয়গুলো জানতে চাইনি। আমাদের কী প্রয়োজন সেগুলো বলেছি।’
গতকালের বৈঠকের বিষয়ে নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশন প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘সংস্কার প্রতিবেদন ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারের কাছে দেওয়ার চেষ্টা করব, তা নাহলে জানুয়ারির ৩ তারিখের মধ্যে দিয়ে দেব।’
সাক্ষাতের বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে ওনাদের কাছে জানতে চেয়েছি ওনাদের কোনো প্রস্তাব আছে কি না। কমিশন তো স্টেকহোল্ডার, উনাদের কাছে জানতে হবে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ক্ষেত্রে উনাদের কোনো সুপারিশ আছে কি না।’