নিজের দেশের মানুষকে যারা হত্যা করে গদি রক্ষার জন্য, তারা কখনো রাজনৈতিক দল হতে পারে না। তারা সন্ত্রাসী সংগঠন। ছাত্রনেতাদের বলছি, আরেকটা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মেরামতের মধ্য দিয়ে এগোতে হবে। সেখান থেকে অস্ত্র, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি বন্ধ করতে হবে। এটা করতে না পারলে এ জাতি বারবার আহত হবে। তাই, পথহারা জাতিকে টেনে তোলার দায়িত্ব ছাত্রদের বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
গতকাল সকালে বাংলাদেশ ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে জামায়াতের আমির এমন মন্তব্য করেন।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেও হত্যাকারী, ক্ষমতার বাইরেও হত্যাকারী। ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের একজন অপরাধীও যেন বাঁচতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। একাত্তরের স্বাধীনতার ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হয়নি। একটা গোষ্ঠী একাত্তরের স্বাধীনতাকে হাইজ্যাক করেছিল। আওয়ামী লীগ তাদের মাথা ইজারা দিয়েছিল পাশের দেশকে। সেখান থেকে যা বলা হয়েছে, সাড়ে ১৫ বছর তাই করেছে।
অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শিবিরকে আটকানোর জন্য, পথে বাধা তৈরির জন্য কমিউনিস্ট আর বামেরা বিভিন্ন সময় রগকাটার তকমা দিয়েছে, জনগণের বিরোধী করে তোলার জন্য চেষ্টা করেছে। কমিউনিস্টরা বারবার শিবিরকে মুছে দিতে চেয়েছে বাংলাদেশ থেকে, তবে কেউ পারেনি। তিনি আরও বলেন, শিবিরের বিরুদ্ধে সময়ে-অসময়ে অভিযোগ তোলা হয় শিবির নাকি রগ কাটে। কিন্তু আফসোস হয়, কেউ প্রমাণও করতে পারল না এই অভিযোগ। আর করবেই বা কীভাবে, শিবিরের ইতিহাসে রগ কাটার নজির নেই। বাম কমিউনিস্টদের অপপ্রচার। এ ছাড়া ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শিবিরের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলেও মন্তব্য করেছেন জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা।
দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর পর প্রকাশ্যে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলন। এতে সারা দেশ থেকে ছাত্রশিবিরের সদস্যরা অংশ নিয়েছেন। সম্মেলনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ২০২৫ সেশনের জন্য নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন জাহিদুল ইসলাম। শিবিরের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নবনির্বাচিত সভাপতি পরবর্তী সময়ে সেক্রেটারি জেনারেল মনোনয়ন দেন। এবার সেক্রেটারি জেনারেল মনোনীত হয়েছেন নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।
গতকাল সকাল ৮টায় ছাত্রশিবিরের সদস্য সম্মেলন শুরু হয়। শিবিরের ঐতিহ্য অনুযায়ী বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শহীদ ওসমানের বাবা এই সম্মেলন উদ্বোধন করেন। এ ছাড়া সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের তরুণ নেতৃত্ব অংশ নিয়ে বক্তব্য রেখেছেন।