সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণকে সন্তোষ্ট করতে পারলে এবং গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করলে অন্তর্বর্তী সরকারের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।
বুধবার (১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মুরাদনগর উপজেলার ডিআর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শোকরানা ও দোয়া মাহফিলে এই মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় তিনি মিথ্যা মামলায় যারা কারাগারে আছে তাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে মুক্তি দাবি করে বলেন, মুক্তি দেওয়াটাও এই সরকারের একটা ভাল কাজ হবে। অনেকে এখনও ফ্যাসিবাদ সরকারের মতো আচরণ করছে। নিজের পছন্দ মতো ইউএনও, ওসি, এসপি আনেন।
ইউএনও এবং ওসিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জালিম সরকার বিদায় নিয়েছে তবে এখনও কেন অনেক ইউএনও, ওসি কথা বলতে ভয় পায়। আপনারা কেন ভয় পান, আপনাদের সমস্যা কোথায় প্রকাশ করুন। আপনাদের অফিসে যারা যাবে হাসি মুখে তাদের গ্রহণ করবেন এবং কথা বলবেন। জনগণের লক্ষ্যের উপরে চিন্তা করে প্রশাসনকে চলতে হবে। যদি এমনটা না করেন তাহলে আপনাদের বিরুদ্ধেও আন্দোলন হবে।
কায়কোবাদ দীর্ঘ তেরো বছর পর জন্মস্থান মুরাদনগরে প্রত্যাবর্তন করেছেন। বুধবার সন্ধ্যায় কায়কোবাদকে বহনকারী গাড়ি বহরটি মুরাদনগর উপজেলা সদরে প্রবেশ করলে তাকে একনজর দেখতে নেতাকর্মীদের ঢল নামে।
দীর্ঘদিন পর মুরাদনগরে এসে শোকরানা ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন। এরপর মুরাদনগর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে পিতা-মাতার ও পরিবারের অন্য সদস্যদের কবর জিয়ারত করেন।
শোকরানা ও দোয়া মাহফিলে আরো উপস্থিত ছিলেন কায়কোবাদের ছোট ভাই কেএম মুজিবুল হক, কাজী জুন্নুন বসরী, কাজী শাহ আরেফিন, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আক্তারুজ্জামান, যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ তৌফিক মীর, হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী প্রচার সম্পাদক মাওলানা গাজী এয়াকুব ওসমানী, কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি চৌধুরী রকিবুল হক শিপন, মুরাদনগর উপজেলা হেফাজতে ইসলামের আমীর মুফতি আমজাদ হোসাইন, নায়েবে আমীর হাফেজ আমিনুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন, সদস্য সচিব মোল্লা মুজিবুল হক, যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাক আহাম্মেদ, কামাল ভূইয়া, নজরুল ইসলাম, আজিজ মোল্লা, আমজাদ আলী তছু প্রমুখ। দোয়া মাহফিলে উপজেলা বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে লক্ষাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।