রিজওয়ানা হাসান বললেন

নতুন বছরে জুলাই হত্যাকান্ডের বিচার নিশ্চিতই লক্ষ্য

জুলাই-আগস্ট হত্যাকান্ডের বিচার নিশ্চিত, রাজনৈতিক মতৈক্য গড়ে তুলে প্রস্তাবিত সংস্কার নিশ্চিত করা এবং রোডম্যাপ অনুযায়ী নির্বাচন করা নতুন বছরে এই তিনটি প্রধান লক্ষ্য অন্তর্বর্তী সরকারের। পাশাপাশি সাধারণ কর্মকান্ড এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিত্যপণ্যের দাম স্বাভাবিক রাখাও সরকারের লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। গতকাল বুধবার বছরের প্রথম দিনে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা জানান।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি ‘জুলাই প্রোক্লেমেশন’ ঘোষণার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে ১৫ দিন সময় ঠিক করে দিলেও এর খসড়া তৈরির কাজ এখনো শুরু হয়নি বলে জানান উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র তৈরির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যেকোনো অভ্যুত্থানের পর এমন ঘোষণাপত্র স্বাভাবিক। সরকার চেয়েছে তাদের মাধ্যমে দেওয়া হোক। সবার সঙ্গে কথা বলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ছাত্ররাও চাচ্ছে সবার ঐকমত্য। খসড়া তৈরির প্রক্রিয়ায় সব পক্ষকেই অন্তর্ভুক্ত করা হবে, ফলে এ নিয়ে মতভেদ হওয়ার কোনো শঙ্কা সরকার দেখছে না।’ আগামী ১৪ দিনের মধ্যে ঘোষণাপত্র দেওয়া অসম্ভব নয় বলেও জানান পরিবেশ উপদেষ্টা।

এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে ৩১ ডিসেম্বর ‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ প্রকাশের কথা জানিয়েছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। পরে গত সোমবার এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, সরকারই জুলাই-অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র প্রকাশ করবে।

প্রেস সচিবের বক্তব্যের পর ‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ প্রকাশ কর্মসূচি স্থগিত করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এর স্থলে একই সময় একই স্থানে ঘোষণা করা হয় ‘মার্চ ফর ইউনিটি’ কর্মসূচি। গত মঙ্গলবারের ওই কর্মসূচি থেকে ঘোষণাপত্র দিতে সরকারকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়।

উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সচিবালয়ে আগুনের ভিডিও দেখা হয়েছে বলেও জানান উপদেষ্টা রিজওয়ানা। তিনি বলেন, আজকের (গতকাল) কেবিনেট বৈঠকে সচিবালয়ে আগুনের ভিডিও দেখা হয়েছে এবং বিশেষজ্ঞরা দেখিয়েছেন কীভাবে আগুন লাগে। এ কারণ নিশ্চিত হতে সংগৃহীত আলামত বিদেশে পাঠানো হয়েছে।

পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, ‘অগ্নিকান্ডের প্রতিবেদনে সরকার সন্তুষ্ট। উদ্বেগের বিষয় ছিল, কারণ এখানে আমরাই অফিস করি। যেভাবে তদন্ত হয়েছে, তা ভরসা না করার কারণ নেই।’

সংস্কার নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এই উপদেষ্টা বলেন, ‘সংস্কার ও নির্বাচন দুটিই অন্তর্বর্তী সরকারের অগ্রাধিকারে রয়েছে। সংস্কার নিয়ে আলোচনা চলছে। রাজনীতিবিদদের থেকে যে ভাইবটা পেয়েছি, যে বার্তাটা পেয়েছি যে, তারাও সংস্কার চায়। এবং তারাও বলছে, কেউ কেউ বলছে যে মৌলিক সংস্কার করে নির্বাচন, কেউ বলছে সংস্কার হোক, কেউ বলছে নির্বাচন প্রাধান্য পাবে।’

যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন দাবি করে বিএনপি বলে আসছে সংস্কারের দায়িত্ব নির্বাচিত সরকারের হাতেই থাকা উচিত। এ বিষয়েও উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সাংবাদিকরা। জবাবে তিনি বলেন, ‘আসলে বিএনপির থেকেও আমাদের সঙ্গে যখন কথা বলা হয়, তারা এ কথা বলেনি যে, সংস্কারের প্রয়োজন নেই। তারা এ কথাটা বলে যে, সংস্কারের প্রয়োজন আছে। তারাও লিখিত মত দিচ্ছেন। তার মানে হচ্ছে যে, রাজনীতিবিদরাও চাচ্ছেন সংস্কার হোক। এখন সংস্কারের ব্যাপ্তি কতটুকু হবে, সংস্কার কোনো কোনো ক্ষেত্রে হবে, সেটা কার মাধ্যমে হবে, এটা করার জন্য রাজনীতিবিদদেরও একটা অবস্থান আছে, সেটার ক্ষেত্রে কিন্তু আবার আমাদের প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন যে ঐকমত্যের জন্য আলাদা কমিশন করবেন। এবং সেটার নেতৃত্ব দেবেন উনি নিজেই।’

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচারের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর চিঠি পাঠানো হয়েছে। এখন ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে আমরা আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছি। এবং ভারতে সঙ্গে আমাদের একটা চুক্তি আছে, সেটাও আমরা বলেছি। সেখানে একটা ব্যতিক্রম আছে, সেটাও বলেছি। সরকারের অবস্থান হচ্ছে শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে তার বিচার করা। যদি উপস্থিতিতে বিচার না হয় তাহলে যেভাবে করে বিচার প্রক্রিয়া করতে হয় সেভাবেই করব।

আওয়ামী লীগ নির্বাচন করতে পারবে কি না, সেই প্রশ্নে রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘নির্বাচনের ব্যাপারে কোন দল অংশগ্রহণ করবে আর কোন দল অংশগ্রহণ করবে না, এটা তো আমরা বলে দেব না। যে দল অংশগ্রহণ করতে চায়, সে দল অংশগ্রহণ করবে। কোন দল কেমন করে অংশগ্রহণ করবে, সেটা তো সেই দলকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

‘এখন কথা হচ্ছে কী, এসব কথা নির্বাচন কমিশন থেকেই আসলে আসতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে যদি আপনারা কোন অবস্থান দেখতেন যে, সরকার এই দল নিষিদ্ধ করছে, তখন আপনারা সরকারকে প্রশ্ন করতে পারতেন। তাছাড়া কোন দল নির্বাচন করবে না করবে, এই প্রশ্নের উত্তর নির্বাচন কমিশনই দেবে,’ বলেন তিনি।’