আগের ম্যাচেই ব্যাটে-বলে দারুণ শক্তিমত্তা দেখিয়েছিল দুর্বার রাজশাহী। কিন্তু আজ তারা ভেঙে পড়ল চিটাগং কিংসের সামনে। পাকিস্তানি ওপেনার উসমান খানের সেঞ্চুরিতে রানপাহাড় গড়ে ১০৫ রানের বিশাল জয় তুলে নিয়েছে মোহাম্মদ মিঠুনের দল। রান তাড়ায় উসমানের সমান স্কোরও গড়তে পারেনি রাজশাহীর ব্যাটাররা।
পাহাড়সম রান তাড়ায় নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে যায় দুর্বার রাজশাহী। দলীয় ৯ রানে সাব্বির হোসেনকে (৮) ফেরান শরীফুল ইসলাম। আরেক ওপেনার মোহাম্মদ হারিস করেন ১৫ বলে ৩২। টানা দুই ফিফটি করা অধিনায়ক এনামুল হক বিজয়ও (৮) আরাফাত সানির বলে পারভেজ ইমনের তালুবন্দি হন। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে রাজশাহী। আকবর আলীকে (১৮) দ্বিতীয় শিকারে পরিণত করেন আরাফাত সানি। রাজশাহীর পরাজয় তখন সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। ছয় ব্যাটার দুই অংকেই যেতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত তারা ১৭.১ ওভারে ১১৪ রানে অল-আউট হয়। তিনটি করে উইকেট নেন আরাফাত সানি আর আলিস আল ইসলাম। ২টি করে নেন শরীফুল আর মোহাম্মদ ওয়াসিম।
শুক্রবার মিরপুরে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে তাসকিন আহমেদের করা ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই পারভেজ ইমনকে (০) হারায় চিটাগং। সবাই যখন তাসকিনের আরেকটি ম্যাজিক্যাল বোলিং ফিগার দেখার অপেক্ষায় ছিল, তখনই শুরু হয় উসমান খান আর ইংল্যান্ডের গ্রাহাম ক্লার্কের তাণ্ডব। দুজনে মিলে গড়েন ১২০ রানের জুটি। ৫২ বলে একশ ছাড়িয়ে যায় চিটাগংয়ের স্কোর। ২১ বলে ফিফটি পূরণ করেন উসমান। এরপর হয়ে ওঠেন আরও বিধ্বংসী। তাসকিন আহমেদ ছাড়া রাজশাহীর আর কোনো বোলার তেমন কোনো পরীক্ষায়ই ফেলতে পারেননি উসমানকে।
গ্রাহাম ক্লার্কও ঝড়ো ব্যাটিং করছিলেন। সোহাগ গাজীর বলে তার ইনিংস থামে ২৫ বলে ৫ চার ২ ছক্কায় ৪০ রানে। কিন্তু উসমান থামেননি। ৪৮ বলে ১১ চার ৫ ছক্কায় তুলে নেন সেঞ্চুরি, যা বিপিএলের ইতিহাসে ৩৩তম সেঞ্চুরি। মাঝে ৮২ রানে একবার জীবন পান। আবার ৯৫ রানেও ডিপ মিডউইকেটে তার ক্যাচ পড়ে। ২০২৩ সালে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপিএলে প্রথমবার খেলতে এসে নিজের দ্বিতীয় ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছিলেন উসমান। এক আসর পর এবার চট্টগ্রামের আরেক ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়েও দ্বিতীয় ম্যাচেই সেঞ্চুরি হাঁকালেন।
তৃতীয় উইকেটে উসমান খানের সঙ্গে মোহাম্মদ ৩১ বলে ৬৩ রানের আরেকটি জুটি গড়েন চিটাগং অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন (২৮)। শেষ পর্যন্ত উসমান খানকে থামান তাসকিন। আউট হওয়ার আগে খেলেন ৬২ বলে ১৩ চার ৬ ছক্কায় ১২৩ রানের ইনিংস। শেষদিকে হায়দার আলীর ৮ বলে ২৩ রানের ক্যামিওতে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২১৯ রান তোলে চিটাগং।