গাজার মানবিক অঞ্চলে বিমান হামলা

আশ্রয়শিবিরের তাঁবু লক্ষ্য করে ইসরায়েলের চালানো বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন গাজার পুলিশপ্রধান-উপপ্রধান। গত বৃহস্পতিবার গাজার বেশিরভাগ এলাকায় চালানো ইসরায়েলি হামলায় তারা ছাড়াও নিহত হয়েছে প্রায় ৯০ জন। বার্তাসংস্থা রয়টার্স লিখেছে, ইসরায়েল ও গাজা শাসনকারী হামাসের মধ্যে ১৪ মাস ধরে চলা যুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকদের জন্য ‘মানবিক অঞ্চল’ হিসেবে চিহ্নিত আল-মাওয়াসি জেলায় এ হামলা চালানো হয়। তখন হতাহতের এসব ঘটনা ঘটে। সেদিনের মৃত্যুর সংখ্যা গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ।

আলজাজিরা বলছে, গত বৃহস্পতিবার ভোর থেকে শুরু হামলায় এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯০ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে গাজার উত্তরাঞ্চলে ৪০ এবং গাজার কেন্দ্রে ও দক্ষিণে হামলায় ৫০ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে খান ইউনিসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরগুলোতে নিহত হয় ছয়জন। আর অন্যরা নিহত হয় উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থীশিবির, সাতি ক্যাম্প এবং গাজার মধ্যাঞ্চলের মাগাজি ক্যাম্পে।

হামাস পরিচালিত গাজার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় নিহত গাজার পুলিশ বিভাগের মহাপরিচালক হলেন মাহমুদ সালাহ ও তার সহযোগী হুসাম শাহওয়ান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের বিবৃতিতে বলেছে, গাজার পুলিশের মহাপরিচালককে হত্যার অপরাধ সংঘটিত করে দখলদার বাহিনী (ইসরায়েল) এ ভূখণ্ডকে আরও বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দিচ্ছে এবং নাগরিকদের দুর্ভোগ আরও বাড়াচ্ছে।

তবে ইসরায়েল জানিয়েছে, পুলিশের নিহত উপপ্রধান দক্ষিণ গাজায় হামাসের নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান ছিলেন। আল আরাবিয়া জানায়, ইসরায়েলের সেনাবাহিনী বলেছে, তারা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খান ইউনিসের পশ্চিমে আল মাওয়াসি এলাকায় হামলা চালিয়ে শাহওয়ানকে হত্যা করেছে। দক্ষিণ গাজায় তিনি হামাসের নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান ছিলেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েল। তবে সালাহর মৃত্যুর বিষয়ে তারা কিছু বলেনি।

এদিকে জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর প্রধান ফিলিপ লাজারিনি এক্সে একটি পোস্টে বলেছেন, গাজায় নিরাপদ অঞ্চল তো দূরের কথা, কোনো মানবিক অঞ্চল নেই।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি যুদ্ধে সাড়ে ৪৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। গাজার ২৩ লাখ মানুষের বেশিরভাগই বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং উপকূলীয় বেশিরভাগ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

এদিকে হঠাৎ করে ইসরায়েলের হামলা বাড়ানোকে আসন্ন যুদ্ধবিরতির আলোচনা আটকে দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ২০ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। শপথ নেওয়ার আগেই যেন হামাস জিম্মিদের মুক্তি দেয় সেই হুঙ্কারও দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেই সঙ্গে ধারণা করা হচ্ছিল যে, ট্রাম্পের ক্ষমতা গ্রহণের আগেই গাজায় যুদ্ধবিরতি হবে। তবে এখন পর্যন্ত সেই লক্ষণ পাওয়া যাচ্ছে না। তারা বলছেন, জো বাইডেনের আমলে আর গাজায় যুদ্ধবিরতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।