‘দেইখ্যা লন, বাইছা লন তিন পিস ফুলকপি ১০ টাকা’ বিক্রেতার এমন হাঁকডাকেও মেলেনি ক্রেতাদের সাড়া। নিরুপায় হয়ে ২ টাকা পিস হিসেবেও ফুলকপি বিক্রির হাঁকডাক। তবুও বিক্রি করতে না পেরে বাজারেই ফুলকপি ফেলে গেছেন কৃষকেরা।
গতকাল সোমবার দুপুরে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার সাপ্তাহিক হাঁটে সবজির বাজারে এমন চিত্র দেখা গেছে।
কয়েকজন কৃষক জানান, বাজারে ফুলকপি এনে কোন দাম পাচ্ছেন না। এর ফলে বাধ্য হয়ে ফুলকপি ফেলে দিয়ে যাচ্ছেন তারা। আবার কেউ কেউ লোকসানে হতাশ হয়ে ফুলকপি গরুকে খাওয়াচ্ছেন। অনেকের আবার ফুলকপি ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে। এতে ফুলকপি চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষক।
ঈশ্বরগঞ্জে চলতি মৌসুমে ফুলকপি ও বাঁধাকপির বাম্পার ফলন হলেও বাজারে বর্তমানে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন সবজি চাষিরা। বিক্রির জন্য বাজারে নিয়ে এলেও, দাম না থাকায় বাজারেই ফুলকপি ফেলে দিয়ে যাচ্ছেন তারা।
ঈশ্বরগঞ্জ পৌর সবজি বাজারে ফুলকপি বিক্রি করতে আসেন উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের জুয়েল মিয়া। তিনি জানান, ৭০ শতাংশ জমিতে ফুলকপি চাষ করেছিলেন। এতে উৎপাদন খরচ হয়েছে প্রায় ৯০ হাজার টাকা। কিন্তু এখন ফুলকপির দাম নেই। তাই খরচ উঠাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।
উচাখিলা ইউনিয়নের চরআলগী গ্রামের কৃষক আনোয়ার, লোকমান ও সুরুজ মিয়া জানান, 'তাদের প্রত্যেকেই ৩০ শতাংশ জমিতে ফুলকপি চাষ করে লোকসান গুণেছেন। বাজারে ফুলকপি নিলে গাড়ি ভাড়াই ঠিকমতো ওঠেনা। দাম না থাকায় ক্ষেতেই নষ্ট হয়েছে অনেকের ফুলকপি। এছাড়া এলাকার অনেক কৃষক ক্ষোভে গরুকে খাওয়াচ্ছেন চাষকৃত ফুলকপি।
বাজার করতে আসা উপজেলার কুমারুলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফারুক মন্ডল বলেন, 'সোমবার সাপ্তাহিক হাটের দিনে ঈশ্বরগঞ্জ পৌর বাজারে কৃষকরা শত শত ফুলকপি ফেলে গেছেন। ফুলকপির দরপতনের কারণে লোকসানে পড়েছেন তারা। বাজারে ফুলকপির বেশি সরবরাহ থাকায় এই দরপতন হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
পৌর এলাকার দত্তপাড়া গ্রামের খুচরা ফুলকপি বিক্রেতা মাজহারুল ইসলাম বলেন, ' উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারে ফুলকপির আমদানি বেশি, কিন্তু চাহিদা কম থাকায় দাম কম। তবে ফুলকপির মান ও আকার অনুযায়ী দামের তারতম্য রয়েছে। তিনটি ১০ টাকায় বিক্রি করছি, আবার একটু ভালো মানের ফুলকপি ৫ থেকে ১০ টাকা করেও বিক্রি করছি। অর্থাৎ যার কাছ থেকে যেমন রাখা যায় আরকি।
বাজার ঘুরে জানা যায়, খুচরা দেশি আলু বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি, আদা ১১০-১২০ টাকা কেজি, পেঁয়াজ ৫০ -৫৫ টাকা, চায়না রসুন ২২০ টাকা, শুকনা মরিচ ২৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৪০ টাকা কেজি, ধনেপাতা ৫ টাকা আঠি, শসা ২৫-৩০ টাকা কেজি, টমেটো ৫০ টাকা, শিম প্রকারভেদে ২০-৩০ টাকা, গাঁজর ৫০ টাকা এবং বেগুন ৪০-৫০ টাকা কেজি। এ ছাড়া লেবু ১৫-২০ টাকা হালি ও লাউ আকার অনুযায়ী ১৫ থেকে ৩০ টাকা পিস হিসেবে বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা রিপা রানী চৌহান বলেন, ‘এবছর উপজেলায় সবজির ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে সবজির কোন ঘাটতি নাই। চাহিদার তুলনায় বেশি উৎপাদনের কারণে বাজারে সবজির দাম কিছুটা কম রয়েছে।‘